Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফকিরডাঙা-ঘোলাপাড়ায় ভাগীরথীর ভাঙন

ফকিরডাঙা-ঘোলাপাড়ায় ভাগীরথীর ভাঙন
  • ১৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ ব্লকের ফকিরডাঙা-ঘোলাপাড়া পঞ্চায়েত এলাকায় বছরভর কমবেশি ভাগীরথীর ভাঙন চলতেই থাকে। তবে গত তিন সপ্তাহ ধরে বাহিরচড়ার ঘোষপাড়া মানিকনগর ফেরিঘাট থেকে ঘোষপাড়া বৈতরণী ঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটানা চলছে ভাঙন। ইতিমধ্যে এই ভাঙনে নদী তীরবর্তী মাহিষ্যপাড়ার ঘোষপাড়ার প্রায় ৫০ বিঘা কৃষিজমির ভুট্টা, ঢেঁড়শ, পটল, মুলো সহ অন্যান্য ফসল নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। ভাঙন ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে গ্রামের জনবসতি এলাকার দিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে যদি এখনই কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া যায় তাহলে আগামীদিনে আরও কৃষিজমি সহ বেশকিছু বসত বাড়ি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। 

Advertisement

ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ মিটার দূরে রয়েছে গ্রামের নবনির্মিত একমাত্র বৈতরণী শ্মশানঘাট, গ্রামের ঘোষপাড়া প্রতীক্ষালয়, তার পাশেই রয়েছে কমিউনিটি টয়লেট, সজলধারা প্রকল্পও। এছাড়া রয়েছে কাঠিয়া বাবার আশ্রম। ভাঙন ভয়াবহ আকার নিলে যে কোনও মুহূর্তে নদীগর্ভে চলে যাবে এই সবকিছুই। 
এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। গ্রামের বাহিরচড়ার উত্তরপাড়ায় চলছে নদী ভাঙন। ফকিরডাঙা-ঘোলাপাড়া পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ার বাসিন্দা বছর আশির নিমাই ঘোষ বলেন, বেশ কয়েক বছরের ভাঙনে আমার ৮ থেকে ১০ বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। এখন অবশিষ্ট মাত্র ১০ কাঠা জমি আছে। এটুকুও যদি ভাঙনের কবলে চলে যায় পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।
ফকিরডাঙা গ্রামের বাসিন্দা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গোলাম মণ্ডল বলেন, এই পঞ্চায়েতের বাহিরচড়া গ্রাম, বাহিরচড়া ঘোষপাড়া, মাহিষ্য পাড়া এই তিনটি গ্রাম এখন ভাঙনের মুখে। এই পঞ্চায়েত সংলগ্ন ভাগীরথী এপারে পূর্ব বর্ধমানের কিশোরগঞ্জে মাস ছয়েক আগে সামান্য কিছু এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁরই প্রচেষ্টা ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে আড়াই কোটি টাকা অনুমোদিত হয়েছে। অথচ এই গ্রামের ভাঙন প্রতিরোধে কোনও পদক্ষেপই করা হচ্ছে না। ওই পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ার বাসিন্দা তথা নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ গৌতম ঘোষ বলেন, আমার বাড়ি থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরে এখন নদী ভাঙন চলছে। পরিবার নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। বিষয়টি তিন বছর ধরে ব্লক এবং জেলা প্রশাসনকে অনেকবার জানানো সত্ত্বেও কোনও কাজ হচ্ছে না। জেলা পরিষদ থেকে বলা হচ্ছে, আমাদের ক্ষমতা সীমিত। এটা কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়। 
নদীয়া জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এটা রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এখানকার সংসদ জগন্নাথ সরকার দু’ হাত ভরে ভোট কুড়িয়েছেন, আশীর্বাদ নিয়েছেন। কিন্তু সংসদে গিয়ে তিনি একবারও বলছেন না, গঙ্গার ভাঙন রোধে কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ করুক।
বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, কেন্দ্রের ওপর যে দোষ চাপানো হচ্ছে বিষয়টা তেমন নয়। নদীর ড্রেজিং করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু নদীর পাড় দেখভাল করার বিষয়টি রাজ্য সরকারের। রাজ্যের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক পদ্ধতির মাধ্যমে আবেদন যেতে হয় কেন্দ্রের কাছে। রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে কোনওরকম সহযোগিতা করছে না বলেই আজকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ নদী ভাঙনের মুখে পড়ছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ