গণেশ মজুমদার, কালনা: কমছে ভাগীরথী নদীর জলস্তর। তাই কালনা শহর ও গ্রামীণ বলয়ে স্নানের ঘাটগুলিতে স্নানের সমস্যা দেখা দিয়েছে। জলস্তর আরও কিছুটা কমলে কালনা সহ অন্যান্য ফেরিঘাটে পারাপারের সমস্যা দেখা দেবে।
গণেশ মজুমদার, কালনা: কমছে ভাগীরথী নদীর জলস্তর। তাই কালনা শহর ও গ্রামীণ বলয়ে স্নানের ঘাটগুলিতে স্নানের সমস্যা দেখা দিয়েছে। জলস্তর আরও কিছুটা কমলে কালনা সহ অন্যান্য ফেরিঘাটে পারাপারের সমস্যা দেখা দেবে।
ভাগীরথী নদীকেন্দ্রিক কালনা শহরের মহিষমর্দিনীতলার ও শহরতলির ধাত্রীগ্রাম, সমুদ্রগড় এলাকায় রয়েছে কয়েকটি প্রাচীন স্নানের ঘাট। বহু দূর থেকে প্রতিদিন অনেকেই পুণ্যস্নানে আসেন এইসব ঘাটে। কিন্তু বছর কয়েক ধরে একটু একটু করে স্নানের ঘাট গুলিতে চর পড়ে যাওয়ায় নদীর গভীরতা কমে গেছে। নদীগর্ভে জেগে উঠেছে চর। জল সরে যাওয়ায় স্নানের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কাদা জল মেখে অনেকটা গিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্নান করতে হচ্ছে পুণ্যার্থীদের। এবারও নদীর জলস্তর কমতে শুরু করায় স্নানের সমস্যা দেখা দিয়েছে। মহিষমর্দিনীতলা স্নানের ঘাট সহ আশপাশের স্নানের ঘাটগুলির একই অবস্থা। অতীতে এমন পাথুরিয়া মহল নরেশ কুমার ঘাট, চৌধুরী ঘাট স্নানের উপযোগী থাকলেও নদীর চর পড়ে যাওয়ায় তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, শহরের মহিষমর্দিনীতলার স্নানের ঘাটটি সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। বাসিন্দারা মনে করেন, এভাবে জলস্তর কমতে থাকলে এবং সংস্কারের কোনও উদ্যোগ না নিলে মহিষমর্দিনীতলা স্নানের ঘাটটিরও বিলুপ্তি ঘটবে।
বাসিন্দাদের দাবি, পুরসভার উদ্যোগে স্নানের ঘাটগুলি ড্রেজিং করে সংস্কার করা হোক। এলাকার বাসিন্দা উদয় সেন বলেন, কালনা শহর সংলগ্ন ভাগীরথী নদীর মহিষমর্দিনীতলা ঘাট অতীতে বন্দর হিসাবে ছিল। ব্যবসা বাণিজ্যে বড় বড় নৌকা ভিড়ত। পরবর্তীতে স্নানের ঘাট হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন পুজো অর্চনায় প্রতিমা বিসর্জন হয় এই ঘাটে। কয়েক বছর ধরে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে ভাগীরথী নদীর জলস্তর কমায় নদীতে চর জেগে উঠছে। স্নানের ঘাটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্নানের জন্য আসা পুণ্যার্থীরা সমস্যায় পড়ছেন। আমরা চাই, স্নানের ঘাটটি সংস্কার করে স্নানের উপযোগী করে গড়ে তোলা হোক। কালনা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তপন পোড়েল বলেন, কয়েক বছর ধরেই ভাগীরথীতে এই সময় জলস্তর কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্নানের ঘাটে জল কম থাকায় স্নানের সমস্যা হয়। পুরসভায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কালনা-শান্তিপুর ফেরিঘাটের ম্যানেজার জয়গোপাল ভট্টাচার্য বলেন, প্রতিদিন জলস্তর কমছে। এখনই লঞ্চ বা ভেসেলে পারাপারে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। আরও কিছুটা জল কমলে ও নদীর বুকে চর জেগে উঠলে সতর্কতার সঙ্গে পারাপার করতে হবে।