Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অগ্রদ্বীপের চর বিষ্ণুপুরে আবারও আগ্রাসী ভাগীরথী, ভয়াবহ ভাঙন, দু’ মাস ধরে জলের নীচে গ্রামের মূল সড়ক

কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের চর বিষ্ণুপুরে ফের ভাগীরথীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু। প্রতিনিয়ত নদী পাড়ের মাটি ধসে পড়ছে জলে। গাছের শিকড় শুদ্ধ জলে উপড়ে পড়ছে। আতঙ্কে ঘুম আসছে না বাসিন্দাদের চোখে।

অগ্রদ্বীপের চর বিষ্ণুপুরে আবারও আগ্রাসী ভাগীরথী, ভয়াবহ ভাঙন, দু’ মাস ধরে জলের নীচে গ্রামের মূল সড়ক
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের চর বিষ্ণুপুরে ফের ভাগীরথীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু। প্রতিনিয়ত নদী পাড়ের মাটি ধসে পড়ছে জলে। গাছের শিকড় শুদ্ধ জলে উপড়ে পড়ছে। আতঙ্কে ঘুম আসছে না বাসিন্দাদের চোখে।  চর কবিরাজপুর, চর কালিকাপুর গ্রামের মানুষরা আতঙ্কের প্রহর গুনছেন। চর বিষ্ণুপুর থেকে নদীয়া জেলার মূল সংযোগকারী রাস্তা দু’ মাস ধরে ভাগীরথীর জলে ডুবে রয়েছে। যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন কাটোয়ার তিনটি গ্রাম। 

Advertisement

কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের সাহাপুর, বিষ্ণুপুর, কালিকাপুর   গ্রামগুলির পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী। ভাগীরথীর অপর পাড়ে চর বিষ্ণুপুর, চর কবিরাজপুর ও চর কালিকাপুর তিনটি গ্রাম রয়েছে। গ্রামগুলি পূর্ব বর্ধমান জেলার হলেও নদীয়া জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। চর বিষ্ণুপুর গ্রাম থেকে নদীয়া জেলার দেবগ্রাম পর্যন্ত একটি প্রায় ১৫ কিমি পাকা রাস্তা রয়ছে। ওই রাস্তা দিয়ে কাটোয়া মহকুমার চর বিষ্ণুপুর, চর কবিরাজপুর ও চর কালিকাপুর তিনটি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ নদীয়া জেলার কাঁড়ালিয়া গ্রামে যান বাস ধরতে। সেখান থেকে তাঁরা নদীয়ার কালীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যান। দেবগ্রামে বাস ধরে বর্ধমান, আসানসোল যান বাসিন্দারা। কারণ ওই তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের ভাগীরথী নদী পার হয়ে তবেই কাটোয়ায় আসতে হয়। তাই তাঁরা ওই রাস্তা দিয়ে নদীয়া জেলায় চিকিৎসা করাতে যান। 
ওই রাস্তার প্রায় পাঁচ কিমি এখন জলের তলায় চলে গিয়েছে। চর বিষ্ণুপুর গ্রামের দু’ কিমি যাওয়ার পরেই রাস্তা জলের তলায় গিয়েছে। এক্কেবারে নদীয়া জেলার কুলবন, ঝাইপাড়া, চর চুয়াডাঙা পর্যন্ত যেতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চর চুয়াডাঙাতে ছাড়িগঙ্গার পাশাপাশি ভাগীরথীর জল বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ভবেশ বারুই বলেন, আমরা ওই রাস্তা ধরে চিকিৎসা করাতে যাই। মাঠের সব্জি বিক্রি করতে যাই। গত দু’ মাস ধরে এখন ওই রাস্তা জলের তলায়। কোমর পর্যন্ত জল জমেছে রাস্তায়। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছেন না। চরম সমস্যায় পড়ে গিয়েছি। আরেক বাসিন্দা কালীদাস হালদার বলেন, ওই রাস্তা ধরে তিনটি গ্রামের মানুষ নদীয়া জেলায় বিভিন্ন কাজকর্ম করতে যান। এখন ফের বাসিন্দাদের ভরা ভাগীরথী নদী পার হয়ে কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ হয়ে কাটোয়া যেতে হচ্ছে। ১৯৯৬ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ভাগীরথী বেশ কয়েকবার গতিপথ পাল্টেছে। যার জেরে চর বিষ্ণুপুর গ্রাম থেকে বিষ্ণুপুর গ্রামটি আলাদা হয়ে গিয়েছে।  পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার অগ্রদ্বীপ অঞ্চলের বিষ্ণুপুর গ্রামে একসময়ে ১৪৩৫ জনের বাস ছিল। ১৯৯৮ সাল থেকে ভাগীরথী চর বিষ্ণুপুর গ্রামকে একটু একটু করে গিলতে শুরু করে। একে একে গ্রামের দুর্গা দালান, কালীমন্দির, প্রাইমারি স্কুল, ক্লাব ঘর, খেলার মাঠ সহ জমি, বাপ ঠাকুরদার বসত ভিটে সবই চোখের সামনে নদীগর্ভে ভাঙনের জেরে বিলীন হতে দেখেছেন গ্রামের বাসিন্দারা। বর্তমানে গ্রামের বেশিরভাগ ভূখণ্ডই নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।  পূর্ব বর্ধমানের  জেলা পরিষদের সদস্য নিতাইসুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, ওই মৌজাগুলিতে ভাঙন ব্যপক বেড়েছে। বাড়িঘর ভেঙেছে। সব্জির জমিতে জল ঢুকেছে। আমরা বিধায়ককে জানিয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ