সংবাদদাতা, মালদহ: ভুয়ো পাসপোর্ট রুখতে নথি পরীক্ষার ক্ষেত্রে কঠোর মালদহ জেলা পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগ। একই রকম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে মালদহের পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্রেও। পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের প্রতিটি নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাঁদের ঠিকানা, অতীত ইতিহাসও খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও রকম গরমিল নজরে এলেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে আবেদনকারীকে। যথাযথ নথি জমা দিয়ে তবেই নতুন করে আবেদন করা যাচ্ছে। পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় নথি খুঁটিয়ে পরীক্ষার কথা জানিয়েছেন মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপকুমার যাদবও। কোনওরকম সন্দেহ হলেই আবেদনকারীর বাড়ি ও জমির দলিল এবং পূর্বপুরুষের বৃত্তান্তও খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা দপ্তর।
Advertisement
বেশকিছু ক্ষেত্রে ভুয়ো পাসপোর্ট চক্রের সক্রিয়তা প্রকাশ্যে এসেছে সম্প্রতি। তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিস ও পাসপোর্ট দপ্তরের এই সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মালদহ শহরের মকদুমপুর পোস্টঅফিসে রয়েছে পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র। সপ্তাহের কাজের দিনগুলিতে ১৫ থেকে ২০ জন অথবা তারও বেশি সংখ্যক আবেদনকারী পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা করতে আসেন এখানে। পোস্ট অফিসের এক কর্মী বলেন, উপর মহলের নির্দেশ রয়েছে প্রতিটি নথি যেন খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। আমরা সেই মোতাবেক কাজ করছি। বিবাহিত আবেদনকারীদের এখন বিয়ের শংসাপত্র অথবা অ্যানেক্সার ‘জে’ জমা করতে হচ্ছে। নথি জমার ক্ষেত্রে সামান্য এদিক ওদিক হলেই আমরা আবেদন গ্রহণ করতে পারব না।
সম্প্রতি মালদহের ভূতনির হীরানন্দপুরের এক বাসিন্দা এসেছিলেন মকদুমপুরের পাসপোর্ট অফিসে আবেদনপত্র জমা দিতে। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর একটি স্বাক্ষর একটি নথিতে না থাকায় খালি হাতে ফিরতে হল ওই ব্যক্তিকে। পোস্ট অফিসের এক কর্মী বলেন, আমাদের এক্ষেত্রে কিছুই করার নেই। ওই পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে আবেদন করার আগেই আবার অনেকে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দেখিয়ে নিচ্ছেন কোনও ভুলভ্রান্তি রয়েছে কি না।মালদহ শহরের মকদুমপুর পোস্টঅফিসে রয়েছে পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র। সপ্তাহের কাজের দিনগুলিতে ১৫ থেকে ২০ জন অথবা তারও বেশি সংখ্যক আবেদনকারী পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা করতে আসেন এখানে। পোস্ট অফিসের এক কর্মী বলেন, উপর মহলের নির্দেশ রয়েছে প্রতিটি নথি যেন খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। আমরা সেই মোতাবেক কাজ করছি। বিবাহিত আবেদনকারীদের এখন বিয়ের শংসাপত্র অথবা অ্যানেক্সার ‘জে’ জমা করতে হচ্ছে। নথি জমার ক্ষেত্রে সামান্য এদিক ওদিক হলেই আমরা আবেদন গ্রহণ করতে পারব না।
মালদহের পুলিস সুপারপ্রদীপ কুমার যাদব বলেন, পাসপোর্টের আবেদনকারীদের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ১৯৭১ সালের জমির দলিল বা নথিও দাখিল করতে বলা হচ্ছে। প্রতিটি নথি পুঙ্খনাপুঙ্খ পরীক্ষা করা হচ্ছে। আবেদনকারীর নাগরিকত্বের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে কি না আমাদের আধিকারিকরা তাও খতিয়ে দেখছেন। এছাড়াও কোনও আবেদনকারীর অতীত অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না তাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
জেলা পুলিসের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন মালদহ জেলা থেকে ভারতীয় নাগরিকদের এই পাসপোর্ট ইস্যু করার ক্ষেত্রে পুলিস ও পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্রের কর্মীদের এই কড়া নজরদারি সাম্প্রতিক সময়ে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।



