সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভুয়ো পুলিস সেজে তোলা আদায়ের অভিযোগে এক যুবতী গ্রেপ্তার হল। বুধবার ভোরে মাড়গ্রামের হাসন গ্রামের তিনমাথা মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের নাম পিউ খাতুন। এদিন তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত করে রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৈকত হাটি বলেন, বিচারক ধৃতের ১৪দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, বছর বাইশের ওই যুবতীর বাড়ি রামপুরহাট শহরের নিশ্চিন্তপুরে। সে পুলিসের পোশাক পরে নেহা খান নামে ভুয়ো ফেসবুক প্রোফাইল খুলে আর্থিক প্রতারণার জাল বিছিয়েছিল। কিছুদিন আগে নলহাটিতে একটি মেলায় তার সঙ্গে ইমাম শেখ নামে এক যুবকের পরিচয় হয়। তখন ওই যুবতী নিজেকে সিউড়ি থানায় কর্মরত এএসআই বলে পরিচয় দিয়েছিল। ইমাম পেশায় গাড়িচালক। তাই রাস্তায় আপদেবিপদে দরকার হতে পারে ভেবে যুবতীর মোবাইল নম্বর নিয়ে রেখেছিলেন। সোমবার সিউড়ির রাস্তায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ইমামের গাড়ি আটক করে পুলিস। তিনি তখন পূর্বপরিচিত ওই যুবতীকে ফোন করে গাড়ি ছাড়ানোর ব্যবস্থা করতে বলেন। ইমাম শেখ বলেন, সেসময় ওই মেয়েটি ১২হাজার টাকা ইউপিআই করতে বলে। সেই টাকা পাঠানোর পরও পুলিস আমার গাড়ি ছাড়েনি। ওই মেয়েটির ফোন নম্বরও এরপর সুইচড অফ হয়ে যায়। তখনই আমার সন্দেহ হয়। সিউড়ি থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এই নামে কোনও মহিলা অফিসার নেই।
মঙ্গলবার বিকেলে মাড়গ্রামের হাসন তিনমাথা মোড়ে ওই যুবতীকে দেখতে পান ইমাম। তখন টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে বচসা হয়। খবর পেয়ে পুলিস দু’জনকে থানায় নিয়ে যায়। পরে ইমাম ওই যুবতীর নামে থানায় এফআইআর করেন। দীর্ঘ জেরার পর ভোরের দিকে ওই যুবতীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, ধৃত যুবতী ভুয়ো পুলিস অফিসার সেজে তোলা আদায় করত। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পুলিসের পোশাক পরা ছবি আপলোড করত।



