Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভুয়ো নার্সিং সেন্টার কাণ্ডে এক বছরের মাথায় চার্জশিট

ভুয়ো নার্সিং সেন্টার কাণ্ডে এক বছরের মাথায় চার্জশিট
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শহরে ভুয়ো নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার কাণ্ডে এক বছরের মাথায় চার্জশিট জমা দিল পুলিস। বেআইনি ওই নার্সিং সেন্টারের পান্ডা শান্তনু শর্মা, তাঁর স্ত্রী এবং এক শাগরেদের নামে চার্জশিট জমা পড়েছে। অভিযোগ, কোনওরকম কাগজপত্র ছাড়া জলপাইগুড়ির পান্ডাপাড়ায় গজিয়ে ওঠে ওই নার্সিং সেন্টার। পড়ুয়াদের থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে দেওয়া হয় ভুয়ো শংসাপত্র। বিষয়টি জানতে পেরেই অভিযান চালায় স্বাস্থ্যদপ্তর। থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই ভুয়ো নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার সিল করে দেয় জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। তদন্তে নেমে ওই নার্সিং সেন্টারের পান্ডা, তাঁর স্ত্রী এবং তাদের শাগরেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। বাজেয়াপ্ত করা হয় অবৈধ ওই নার্সিং সেন্টারের অন্তত ৫০লক্ষ টাকার সম্পত্তি। এবার ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দিল পুলিস। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সাতটি ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে খবর। আদালতের নির্দেশ পেলে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পড়ুয়াদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে বলে পুলিস জানিয়েছে। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, শহরে ভুয়ো নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার কাণ্ডে আমরা তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছি। কিছু সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশমতো পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
Advertisement
শহরের পান্ডাপাড়ায় বেআইনিভাবে একটি নার্সিং অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল সেন্টার চলছে বলে গত বছর আগস্ট নাগাদ জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে অভিযোগ জমা পড়ে। সেখানে শতাধিক ছেলেমেয়েকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর থেকে তিন-চার লক্ষ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিনিময়ে শংসাপত্রও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, ওই শংসাপত্রের আদৌও কতটা দাম রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই নার্সিং সেন্টারের কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে বলা হয়, স্বাস্থ্য-শিক্ষা প্রশিক্ষণের আড়ালে পুরোপুরি প্রতারণা চলছে ওই নার্সিং সেন্টারে। প্যাথলজি, এক্স রে এসবের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হয়। দরকার হয় ক্লিনিকাল এস্টাব্লিসমেন্ট লাইসেন্স। কিন্তু সেসব কিছুই না থাকা সত্ত্বেও দিব্যি সেন্টারটি চলছে।
অভিযোগ পাওয়ার পরই সেখানে হানা দেন জেলার স্বাস্থ্যকর্তারা। সরেজমিনে খতিয়ে দেখে তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, নথিপত্র ছাড়া ওই নার্সিং সেন্টার চালানো যাবে না। এরপরই সেন্টারের কর্তা স্বাস্থ্যদপ্তরে মুচলেকা জমা দিয়ে জানিয়ে দেন, তিনি ওই নার্সিং সেন্টার আর চালাতে চান না। সেইমতো সেন্টারের বাইরে নোটিসও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় স্বাস্থ্যদপ্তর নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারটি গত বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ সিল করে দিতেই আলোড়ন ছড়ায়। যেসব পড়ুয়া কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে এখান থেকে শংসাপত্র পেয়েছিলেন, তাঁরা বিপদে পড়েন। শুরু হয় বিক্ষোভ। টাকা ফেরতের দাবি জানান পড়ুয়ারা। পুলিস তদন্তে নেমে প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
সম্পর্কিত সংবাদ