নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে প্রতারণা চক্রের মূল দুই পান্ডাকে গ্রেপ্তার করল ঝাঁটিপাহাড়ী ফাঁড়ির পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম গৌরীশঙ্কর বক্সি ও সমীর মণ্ডল। গৌরীশঙ্কর সোনারপুরের বাসিন্দা। সমীর হরিণঘাটার বাসিন্দা হলেও বারাসতে থাকত। ঝাঁটিপাহাড়ী ফাঁড়ির এক আধিকারিক বলেন, ভুয়ো ডিমান্ড ড্রাফট দিয়ে প্রতারণা কাণ্ডে এর আগে শেখ সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাকে জেরা করে আমরা গৌরীশঙ্কর ও সমীরের নাম জানতে পারি। সেইমতো বারাসত ও বারুইপুরে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার বিকেলে বারাসত থেকে প্রথমে সমীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে গৌরীশঙ্করের ডেরায় আমরা পৌঁছে যাই। রাতে দু’জনকে বাঁকুড়ায় আনা হয়। সেলিম বর্তমানে পুলিস হেফাজতে রয়েছে। তিনজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে ঘটনার কিনারা করা হবে। তবে ওই তিনজনের বাইরে প্রতারণা চক্রে আরও কয়েকজন জড়িত বলে আমরা মনে করছি। ধৃতদের জেরা করে বাকিদেরও নাম জানার চেষ্টা হবে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বাঁকুড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক আটদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
Advertisement
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ঝাঁটিপাহাড়ীর বিশ্বজিৎ রক্ষিত ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ সামগ্রী বিক্রির একটি জনপ্রিয় অ্যাপে তাঁর চারচাকা গাড়ি বিক্রির ব্যাপারে বিজ্ঞাপন দেন। তা দেখে কলকাতার এক বাসিন্দা দিন দশেক আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। ৪ জানুয়ারি লোক মারফত ৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকার জাল ‘ডিমান্ড ড্রাফট’ পাঠিয়ে ওই ব্যক্তি গাড়িটি নিয়ে বেপাত্তা হয়ে যায়। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে বিশ্বজিৎ ঝাঁটিপাহাড়ী ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর এলাকা থেকে পুলিস সেলিমকে গ্রেপ্তার করে। সেই সঙ্গে চার চাকা গাড়িটিও উদ্ধার করা হয়।
এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, গৌরীশঙ্কর ও সমীর ছ’লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাকে গাড়িটি বিক্রি করেছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সেলিম দাবি করেছিল। সেলিমের কাছেই সমীর ও গৌরীশঙ্করের ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত জানতে পারি। সেলিম চোরাই গাড়ি বেচাকেনার ব্যবসা করত সেইসূত্রেই ধৃত প্রতারকরা তার কাছে গাড়িটি নিয়ে যায়। ধৃতদের মধ্যে কে বিশ্বজিতের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়িটি গায়েবের চেষ্টা করেছিল, তা আমরা জানার চেষ্টা করছি। কীভাবেই বা জাল ‘ডিমান্ড ড্রাফট’, আধার, ভোটার ও প্যান কার্ড প্রতারকরা তৈরি করেছিল, তাও জানতে চাইব।
এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, গৌরীশঙ্কর ও সমীর ছ’লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাকে গাড়িটি বিক্রি করেছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সেলিম দাবি করেছিল। সেলিমের কাছেই সমীর ও গৌরীশঙ্করের ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত জানতে পারি। সেলিম চোরাই গাড়ি বেচাকেনার ব্যবসা করত সেইসূত্রেই ধৃত প্রতারকরা তার কাছে গাড়িটি নিয়ে যায়। ধৃতদের মধ্যে কে বিশ্বজিতের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়িটি গায়েবের চেষ্টা করেছিল, তা আমরা জানার চেষ্টা করছি। কীভাবেই বা জাল ‘ডিমান্ড ড্রাফট’, আধার, ভোটার ও প্যান কার্ড প্রতারকরা তৈরি করেছিল, তাও জানতে চাইব।



