Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিঘার পর বিঘা জমি, ৪০ লাখের বাড়ি ট্যাব কাণ্ড: আঙুল ফুলে কলাগাছ ওসমান, দিবাকরদের

বিঘার পর বিঘা জমি, ৪০ লাখের বাড়ি ট্যাব কাণ্ড: আঙুল ফুলে কলাগাছ ওসমান, দিবাকরদের
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও সংবাদদাতা চোপড়া, ইসলামপুর: পুলিসি ধরপাকড় থামার এখনই কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ ট্যাব কাণ্ডে ধৃতদের অনেকেই জাল এতটাই বিস্তার করে ফেলেছেন, শিকড় থেকে তাঁদের উপড়ে না ফেললে মুশকিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
Advertisement
গত ৭ দিনে উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে ১৩ জনকে জালে তুলে ফেলেছে রাজ্যের একাধিক থানার পুলিস ও গোয়েন্দারা। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই জালিয়াতির কর্মকাণ্ড জানা ও চক্রীদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত পুলিসের। এরই মাঝে চোপড়ার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কান পাতলেই উঠে আসছে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ওই এলাকার বাসিন্দা ওসমান আলি, মনসুর আলম ও দিবাকর দাসদের হঠাত্ করে সম্পত্তি বৃদ্ধির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। যা নিয়ে স্থানীয় মানুষজন যেমন তাজ্জব বনেছেন, চক্ষু চড়কগাছ ভিনজেলা থেকে আসা তদন্তকারীদেরও। 
স্থানীয় সূত্রে খবর,কালিগছ এলাকার অতি সাধারণ ঘরের ছেলে ওসমান আলি। তাঁর বাবা একজন চা চাষি। সম্প্রতি আচমকাই বিঘার পর বিঘা জমি ও চা বাগান কিনেছেন ওসমান। হাঁকিয়েছেন পেল্লাই বাড়িও। স্থানীয় ও তদন্তকারীদের সূত্রে যতদূর জানা গিয়েছে, তাতে ওসমান ৯ থেকে ১০ বিঘা চা বাগান কিনেছেন। প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করে বানিয়েছেন বাড়ি। কয়েক লক্ষ টাকা দামের বাইক নিয়ে তিনি এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন।
বিপুল সম্পদ রয়েছে শিলিগুড়ির ভক্তিনগর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক দিবাকর দাস ওরফে বিট্টুরও। স্কুল শিক্ষক বিট্টু ৪০ লাখ টাকা বাজেটে বাড়ি বানানো শুরু করেছিলেন। স্থানীয়রা বলছেন, খেলাধুলোয় খুব ভালো ছিলেন তিনি। আপাতদৃষ্টিতে ততটা দেখনদারি ছিল না ওঁর মধ্যে। কিন্তু আচমকাই সম্পদ বৃদ্ধিতে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। ট্যাব কাণ্ডে গ্রেপ্তারের পর অনেকের বক্তব্য, সাইবার জালিয়াতিতে জড়িয়েই তাঁদের সম্পত্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। গোটা ঘটনায় অবাক হয়ছেন বিট্টুর স্কুলের সহ শিক্ষকরাও। অন্যদিকে, ধৃতদের মধ্যে কালিগছের বাসিন্দা মনসুর আলমেরও আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। তিনি সম্প্রতি কয়েকবিঘা চা বাগান এবং এবছর শিলিগুড়িতে জমিও কিনেছেন। 
পুলিস ও ইসলামপুর মহকুমা আদালত সূত্রে খবর, ট্যাব কেলেঙ্কারিতে তমলুক থানায় অভিযোগে নাম জড়িয়েছে ওসমান ও মনসুর আলমের। তাঁরা কয়েকদিন আগে গ্রেপ্তার হওয়া সাদ্দেক হোসেনের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। ট্যাব কাণ্ডে তাঁদের স্পষ্ট যোগ আছে বলে পুলিসের অভিযোগ। সাদ্দেকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই সম্প্রতি ওসমান ও মনসুরদের খোঁজ পায় পুলিস। দিল্লি পালানোর সময় ইসলামপুর থেকে তাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এদের পূর্ব মেদিনীপুরে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যাচ্ছে পুলিস। এর আগে সাদ্দেকের সম্পত্তি বৃদ্ধির বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসেছিল। এবার তাঁরই দুই সঙ্গীর বিপুল সম্পত্তির কথা সামনে এল। পুলিসের অনুমান, লাগাতার সংগঠিতভাবে জালিয়াতি চালিয়ে যাওয়ার কারণেই হয়তো এত সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে অভিযুক্তদের। 
এদিকে, ট্যাবের টাকা জালিয়াতি কাণ্ডে পৃথক দুটি মামলায় সোমবার ৫ জনকে ইসলামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তাদের ট্রানজিট রিমান্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় ভাওয়াল। তমলুকের একটি মামলায় ওসমান আলী, মনসুর আলম, রৌশন জামান,  মুতাকাব্বির আলিকে এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুর থানার অন্য মামলায় মোজাম্মেল হককে আদালতে তোলা হয়েছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ