সংবাদদাতা, করিমপুর: বর্ষার সময় বিভিন্ন গর্তে জল জমে যাওয়ার কারণে ঘরের কোণে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেও শীতের শুরুতে সাপ শীতঘুমে গর্তে ঢুকে যায়। কিন্তু বর্তমানে কোথাও বাড়িঘর নির্মাণ, জঙ্গল পরিষ্কার করা বা মাটি কাটার মতো নানা কাজের জন্য সাপেরা ক্রমেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে। এমনকি শীতঘুমের সময়ও এখন স্বস্তি নেই সাপেদের। করিমপুর নেচার কেয়ার সোসাইটির সদস্য গোলক বিশ্বাস জানান, সাপের দেহে শীতল রক্তের কারণে শীতকালে অর্থাৎ নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে মাঝ ফেব্রুয়ারি অবধি প্রায় তিন মাস সাপেরা শীতঘুমের জন্য মাটির নীচে গর্তে আশ্রয় নেয়। ঠান্ড পড়তে শুরু করলেও গত দশদিনে করিমপুরের বিভিন্ন বাড়ি থেকে বেশ কয়েকটি বিশালাকার খরিশ সাপ উদ্ধার হয়েছে। আশপাশের এলাকায় জঙ্গল পরিষ্কার বা মাটি কাটার কারণে বিপন্ন হয়ে তারা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। চাষের জমি, পুকুর, নদী, নালা, খাল বিল বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি কাটার যন্ত্র দিয়ে অবৈজ্ঞানিক ভাবে মাটি কেটে ফেলার ফলে সাপেদের বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
Advertisement
নেচার কেয়ার সোসাইটির অন্য সদস্য তরুণ পোদ্দার বলেন, যেখানে সেখানে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে একসময় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে। আশ্রয়হীন সাপ অনেক সময় লোকালয়ে আশ্রয় নেবে। সাপের উপদ্রব বাড়বে ও মানুষকে সাপে কামড়ানোর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। ইদানীং গ্রামের আশপাশে বনের পরিবেশ ধ্বংস হওয়ার কারণেই সাপ বাড়িতে আশ্রয় খুঁজছে। মানুষের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।



