নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বাঘের আতঙ্কে থমথমে বেলপাহাড়ী। গভীর জঙ্গলে কোথায় যে বাঘ লুকিয়ে বসে আছে, তা এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। জিনাতের গলায় রেডিও কলার থাকায় তার চলাফেরা নজরে রাখা সহজ হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই সুবিধে থেকে বঞ্চিত বনদপ্তর। তবে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের কর্মীরা এলাকায় লাগাতার টহল দিচ্ছেন। জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামবাসীদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। স্থানীয় স্কুলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা এদিন বলেন, বাঘের এখনও কোন হদিশ মেলেনি। সম্ভাব্য জায়গাগুলো জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চল্লিশটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গ্ৰামবাসীদের সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলা হচ্ছে। ঝাড়গ্ৰামের সীমানা লাগোয়া ঝাড়খণ্ড এলাকায় ক’দিন ধরেই বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যাওয়ার খবর আসছিল। আশঙ্কা ছিল যে কোনও মুহূর্তে বাঘটি বেলপাহাড়ীর জঙ্গলে ঢুকে পড়তে পারে। আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণিত করে বাঁশপাহাড়ীর পাদদেশে হাঁড়িডিহার জঙ্গলে গত রবিবার বাঘের পায়ের ছাপ মেলে। বনবিভাগের তরফেও জঙ্গলে বাঘের পায়ের ছাপ মেলার কথা স্বীকার করা হয়। জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামগুলোতে এরপরেই সতর্কতা জারি করা হয়। সোমবার সকাল থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা শুরু করা হয়েছে। গ্ৰামবাসীদের জঙ্গলে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হচ্ছে। বাগডোবা, চিটামাটাটি, মুনিয়ারডি গ্ৰামের একাধিক স্কুল এদিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্ৰামের মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরচ্ছেন না। জঙ্গলে বাঘ আসায় মকর উৎসবের আয়োজনেও ভাটা পড়েছে। বেলপাহাড়ীর জঙ্গল বাঘেদের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে উঠবে কিনা তা নিয়ে চর্চা চলছে। হাঁড়িডিহা জঙ্গল চিরে মনিয়ারডি থেকে চিটামাটির দিকে পিচ রাস্তা চলে গিয়েছে। বাঘটির পায়ের ছাপ রাস্তার দু’ পাশের জঙ্গলে মিলেছে। বন বিভাগের অনুমান, বাঘটি জঙ্গলের উত্তর দিক থেকে এসে রাস্তা পেরিয়ে দক্ষিণ দিকে গিয়েছে। গলায় রেডিও কলার না থাকায় জঙ্গলে বাঘের সঠিক অবস্থান জানা যাচ্ছে না। যা আতঙ্ক অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাগডোবা গ্ৰামের বাসিন্দা মৌসুমে বাস্কে বলেন, সকালে বন বিভাগের অফিসাররা এসেছিল। জঙ্গলে পাতা ও কাঠ সংগ্রহ করতে যেতে নিষেধ করেছে। সবার মুখে শুনছি বাঘ জঙ্গলে আছে, কিন্ত হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাড়ি থেকে বেরতে ভয় পাচ্ছি।



