সংবাদদাতা, বহরমপুর: রবিবার শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ট্রাফিক ও পাওয়ার ব্লকের কারণে ট্রেন চলাচল সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিঘ্নিত হয়। যার ফলে দিনভর ট্রেনযাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সমস্যার জেরে নিত্যযাত্রীদের বাস, টোটো বা অটো ধরে কর্মক্ষেত্রে যেতে হয়। সাধারণ মানুষের কাছে ট্রেন বন্ধের আগাম সূচনা না থাকায় তাঁদের বিভিন্ন স্টেশনে গিয়ে নাকাল হয়ে ফিরতে হয়। নাকাল যাত্রীরা রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তবে এই সমস্যা ছিল লালগোলা থেকে পলাশি স্টেশন পর্যন্ত। কারণ এর মাঝে এলসি ১২৪-এ গেটের এলএইচএস (লিমিটেড হাইট সাবওয়ে)র কাজ চলছিল। সন্ধ্যার পর আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। রবিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত সাড়ে ৭ ঘণ্টা শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচলে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। দু’জোড়া ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল। তিনজোড়া ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। তারমধ্যে দু’জোড়া ট্রেন শিয়ালদহ থেকে রেজিনগর ও একজোড়া ট্রেন শিয়ালদহ থেকে পলাশি পর্যন্ত যাতায়াত করেছে। হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস সহ আপ ও ডাউন লাইনে আরও চারটি ট্রেনের সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ে দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে ট্রেনগুলি। রেল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত আগাম বিজ্ঞপ্তি আকারে জানানো হয়নি বলে অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন। যদিও রবিবার ছুটির দিন থাকায় স্কুল, অফিস, আদালতের নিত্যযাত্রীরা এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন। কিন্তু বহু মানুষ ট্রেনে কর্মস্থলে যান। কার্যত তাঁরাই ক্ষোভ ফেটে পড়েছেন। বহরমপুর থেকে সপ্তাহে চারদিন সব্জি নিয়ে বেলডাঙা যান হাতিনগরের বাসিন্দা শ্যামল রজক। শ্যামলবাবু বলেন, রেল কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল স্টেশনে স্টেশনে আগাম ঘোষণা করে জানিয়ে দেওয়া, কিংবা বিজ্ঞাপন আকারে রেলযাত্রীদের অবগতি করা। তা হয়নি বলেই নাকাল হতে হয়েছে। ভগবানগোলা থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন রামেলা বিবি। তিনি বলেন, ট্রেন ধরতে স্টেশনে গিয়ে জানতে পারি ট্রেন বন্ধ। আগাম জানা থাকলে এতটা হয়রান হতে হতো না।



