নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: মুরগির বাচ্চা খেয়ে ফেলে পাশের বাড়ির পোষ্য কুকুর। সেই নিয়েই অশান্তি শুরু হয়েছিল একই গ্রামের দুই পরিবারের মধ্যে। যা গড়াল হাতাহাতি, মারধরে। তার জেরে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি থানার সেরেংডি এলাকার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। গত শুক্রবার ওই বৃদ্ধার পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওইদিনই পুলিস অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ জানুয়ারি দুপুরে বৃষকেতু কুমারের একটি মুরগির বাচ্চা খেয়ে নেয় একটি পোষ্য কুকুরে। ওই কুকুরটির মালিক গৌতম কুমার। এনিয়ে ওইদিন দুপুরেই দুই পরিবারের মধ্যে একপ্রস্থ অশান্তি হয়। তা মিটেও যায়। তবে, সন্ধ্যায় কুকুরটি ফের বৃষকেতুদের বাড়িতে চলে যায়। তখন নতুন করে দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। এনিয়ে চেঁচামেচি করতে থাকে বৃষকেতুর ৭৫বছরের বৃদ্ধা মা রাজোবালাদেবী। সেই সময় বৃদ্ধাকে গৌতম ও তার দুই ছেলে চিত্ত ও মানস মিলে মারধর করে। বৃদ্ধার পেটে সজোরে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। মাটিতে পড়ে বৃদ্ধার একটি পা ভেঙে যায়। এরপরেই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঘমুণ্ডি ও পরবর্তীতে পুরুলিয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিত্সা চলাকালীন গত ৩ ফেব্রুয়ারি বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। পরলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই প্রতিবেশী তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায়। ঘটনায় চিত্ত ও মানসকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই ঘটনায় প্রতিবেশীদের অনেকেই অবাক হচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, একটা কুকুরের মুরগির বাচ্চা খেয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এই অশান্তি একেবারেই কাম্য নয়।



