নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: আইপিএল নিয়ে চলছে দেদার বেটিং। বলপিছু উড়ছে হাজার হাজার টাকা। ৩০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রেট ধার্য হচ্ছে প্রতি বলে। জুয়াড়িদের মোবাইল ফোনে লিঙ্ক পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই লিঙ্কে ক্লিক করে বেটিংয়ে অংশ নিচ্ছে যুবকরা। দু’-একজন জিতলেও বহু যুবকই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বেটিংয়ের ফাঁদে পড়ে। যাঁরা জিতছেনও, তাঁরা লোভে পড়ে ফের দ্বিগুণ টাকা বাজি ধরছেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার কপাল সঙ্গ না দিলেই ফাঁকা হচ্ছে পকেট। ফরাক্কার বল্লালপুরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে এইরকমই এক বেটিং সিন্ডিকেট চালাচ্ছিল ছত্তিশগড়ের ন’ জন যুবক। জঙ্গিপুর পুলিস জেলার সাইবার ক্রাইম থানা তাদের গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ কর এই তথ্য উঠে এসেছে।
ফরাক্কার এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। নির্দিষ্ট একটি মোবাইল অ্যাপের লিঙ্ক পাঠিয়ে যুবকদের বেটিং চক্রে জড়িয়ে নিত তারা। সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা দিয়ে বেটিংয়ে অংশ নেওয়া যেত। লোভে পড়ে অনেকেই বহু টাকা খুইয়েছেন।
জানা গিয়েছে, ধৃতরা প্রত্যেকেই কম্পিউটারে তুখোড়। ফোনের অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে হাজার হাজার যুবকের কাছে লিঙ্ক পাঠিয়ে জুয়ায় অংশ নিতে উৎসাহ দিতে তারা। ফরাক্কায় ভাড়া বাড়িতে ‘কন্ট্রোল রুম’ খুলে বেটিং চক্র চালাচ্ছিল ওই নয় যুবক। প্রত্যেকের বয়স কুড়ি থেকে ছাব্বিশ বছরের মধ্যে। পুলিস তাদের সাতদিনের জন্য হেফাজতে পেয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছে, আইপিএল টুর্নামেন্টের প্রায় প্রতি বলেই টাকা লাগানো হতো। ন্যূনতম ৩০০ টাকা দিয়ে জুয়ায় অংশ নেওয়া যেত। নির্দিষ্ট একটি বলে কত রান হবে, বা উইকেট পড়বে কিনা, এমন বাজি ধরে ৩০০ টাকার বিনিময়ে তিন হাজার টাকা জিততে পারে অনেকেই। একবার কেউ জিতলেই সেই টাকা দশগুণ করার লোভে আবার টাকা লাগাতে শুরু করত। এইভাবেই একের পর এক খেলায় কোটি কোটি টাকা উড়েছে বেটিং অ্যাপে। ছত্তিশগড়ের যুবকরা বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলায় বেটিং চক্র ছড়িয়ে দেওয়ার পর মুশিদাবাদ থেকে এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বেটিং চালাচ্ছিল।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০-১২ দিন আগে মোটা টাকা দিয়ে ফরাক্কার বল্লারপুরে এক তৃণমূল নেতার বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল অভিযুক্তরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, পুলিস সেখানে হানা দিয়ে ন’ জনকে গ্রেপ্তার করে। চার মাস আগে তারা ছত্তিশগড় থেকে এসে মুর্শিদাবাদে ঘাঁটি গেড়েছিল। এর আগে ফরাক্কার অন্য একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল তারা। পুলিসের ভয়ে এক জায়গায় বেশিদিন থাকত না তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গ্রামের বহু তরুণ ও যুবকরা ৫০০ বা ১০০০ টাকা করে আইপিএলে বেটিং শুরু করে। একদিন জিতলে পরের দিন, দ্বিগুণ উৎসাহে অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে এসে বেটিং করত। কোনও কারণে একদিন হেরে গেলে লসের টাকা তোলার জন্য পরদিন ফের টাকা লাগাত। এভাবেই বহু যুবক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। টাকা জোগাড়ে অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ছে কেউ কেউ। পুলিস যে এই ন’ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিক।