Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিএসএফের রুদ্ধশ্বাস অপারেশনে ধৃত সাত বাংলাদেশি ও তিন দালাল

বিএসএফের রুদ্ধশ্বাস অপারেশনে ধৃত সাত বাংলাদেশি ও তিন দালাল
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ডোমকল: জলঙ্গিতে বিএসএফের রুদ্ধশ্বাস অপারেশন। কখনও সরাসরি, কখনও টোপ দিয়ে, কখনও আবার সাদা পোশাকে চলল হানা! তাতেই একসঙ্গে সাত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও তিন ভারতীয় দালালকে পাকড়াও করল বিএসএফ। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে টানা আট ঘণ্টার অপরেশনে তাদের পাকড়াও করেন বিএসএফের ১৪৬ ব্যাটালিয়নের জলঙ্গি ক্যাম্পের জওয়ানরা। ধৃত বাংলাদেশিদের নাম স্বপন আলি, হামিদুল,  রনি আহমেদ,  লিটন হোসেন,  রতন আলি,  মহাবুল মণ্ডল, জালাল বিশ্বাস। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। আর তিন ভারতীয় দালাল হলেন মিলন মণ্ডল, জীবন মণ্ডল, সিরাজ বিশ্বাস। মিলনের বাড়ি জলঙ্গির মধুবোনায় আর বাকি দু’জনের বাড়ি নদীয়ার হোগলবেড়িয়ায়। বৃহস্পতিবার রাতে ধৃতদের জলঙ্গি থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়। শুক্রবার ধৃতদের বহরমপুর আদালতে পাঠানো হলে চারজনকে পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বিএসএফ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোরে জলঙ্গির সরকারপাড়ায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে ছয় থেকে সাতজনের একটি দলের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। তৎক্ষণাৎ বিএসএফ জওয়ানরা তাদের ধাওয়া করেন। ঘন কুয়াশার সুযোগে বাকিরা ভারতীয় গ্রামের দিকে পালিয়ে গেলেও দু’জনকে ধরে ফেলেন জওয়ানরা। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। গত বছরের বিভিন্ন সময়ে তারা ভারতীয় দালালদের সহযোগিতায় এদেশে ঢুকেছিল। পাশাপাশি তারা এটাও জানায়, তাদের সঙ্গে আরও পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিল। তারাও তাদের সঙ্গে জলঙ্গির মধুবোনার এক দালালের মাধ্যমে সীমান্ত দিয়ে নিজের দেশে ফেরার ছক কষেছিল, তবে বিএসএফ হানা দেওয়ায় বাকিরা গা ঢাকা দিয়েছে।  জিজ্ঞাসাবাদের মাঝেই ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনে একটি ফোন আসার পর অভিযানটি নতুন দিকে মোড় নেয়। কলটি ছিল, অপর এক দালালের। সঙ্গে সঙ্গে বিএসএফ জওয়ানরা দ্রুত কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরির পাশাপাশি দালালকে ধরার জন্য একটি ফাঁদ পাতে। তারা ধৃতদের একজনকে দিয়ে ফোনে দালালকে জানাতে বলে, তারা সবাই ঠিক আছে এবং পাশেই জলঙ্গি কাস্টমস অফিসের পিছনে তারা লুকিয়ে আছে। সেখানে দালালকে আসতে বলা হয়। টোপ গিলে সেখানে দালাল আসতেই তাকে পাকড়াও করেন জওয়ানরা।  ওই দালালকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গা ঢাকা দেওয়া পাঁচ বাংলাদেশির সন্ধান পান জওয়ানরা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে আরও দুই ভারতীয় দালালের খোঁজ পান জওয়ানরা। এরপর একই কায়দায় ওই দালালকে দিয়ে ওপর দুই দালালকে ধরার জন্য টোপ ফেলা হয়। তাদের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ডাকা হয়। এবার বিএসএফ জওয়ানরা নিজেরাই ছদ্মবেশ ধারণ করে বাংলাদেশি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করেন।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ