সংবাদদাতা, লালবাগ: লালগোলার রামনগরে বিএসএফের ওয়াচ টাওয়ার বসানো নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, ওই জায়গায় ওয়াচ টাওয়ার হলে জমিতে যাতায়াতের জন্য এলাকার মানুষকে বিএসএফের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে। ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হবে। সেই কারণে কোনও ভাবেই ওই এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার বসানো যাবে না। স্থানীয় কোম্পানি কমান্ডার মমরাজ মাওরিয়া বলেন, ওখানে ওয়াচ টাওয়ার হলে কৃষকদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবুও তাঁদের আপত্তির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
Advertisement
লালগোলা থানার সীমান্তের বিলবোরাকোপরা পঞ্চায়েতের রামনগরে ১৪৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের আটরশিয়া বিওপি রয়েছে। রামনগর গ্রামের উত্তর দিকে শেষ প্রান্তে রয়েছে বিএসএফ রোড। ওই সড়ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরত্বে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট। সীমান্ত সড়ক এবং জিরো পয়েন্টের মধ্যবর্তী এলাকাজুড়ে থাকা জমিতে চাষাবাদ হয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ছাড়াও সীমান্তের ওই পিচ রাস্তা স্থানীয় কৃষিজীবীরা ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কৃষিজীবীদের ওই রাস্তা ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফলে মাঠের ফসল ঘরে তুলতে কোনও গাড়ি কিংবা ভ্যানের সাহায্য নেওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই, মাথায় করে ফসল মাঠ থেকে নিয়ে আসতে হচ্ছে। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজ শেখ বলেন, আগে আধার কার্ড দেখালে বাসিন্দাদের কৃষিকাজের জন্য মাঠে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হতো। এখন বিএসএফ চৌকিতে আধার কার্ড জমা করে নাম নথিভুক্ত করতে হয়। তারপর ১০-১২ দিন পর জমিতে যাওয়ার অনুমতি মেলে। এর ফলে কৃষিকাজ মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। বর্তমানে বিএসএফ সড়ক লাগায়ো যে ওয়াচ টাওয়ার আছে সেখান থেকে দুশো মিটার দূরে নতুন করে আরও একটি ওয়াচ টাওয়ার তৈরির পরিকল্পনা করেছে বিএসএফের কর্তারা। বিএসএফের নির্দিষ্ট করা জায়গায় ওয়াচ টাওয়ার তৈরি হলে কাঁচা মাটির যে রাস্তা ব্যবহার করে কৃষকরা জমি থেকে ফসল নিয়ে রামনগর গ্রামে পৌঁছন, তা বন্ধ হয়ে যাবে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। এই বিষয়ে গ্রামবাসী মনতাজ শেখ বলেন, এখন অনুমতি নিয়ে বিএসএফের পিচ রাস্তার পাশে কাঁচা রাস্তা দিয়ে ফসলের জমিতে যাওয়া যায়। কিন্তু নতুন ওয়াচ টাওয়ার হলে সেই পথও বন্ধ হয়ে যাবে।



