


রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণ ও হেনস্তার অভিযোগ উঠছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে অনন্য বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গ। বাংলায় তৈরি রাখি পাড়ি দিল দিল্লি, মুম্বই, গুজরাত, ওড়িশাসহ দেশের নানা প্রান্তে। রাখি প্রস্তুতকারকদের সোজাসুজি মন্তব্য, দেশ এক। আর এই দেশে সব ভাষা, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়ের মানুষের বন্ধনটাও এক এবং অটুট থাকুক।
বাংলা বরাবরই অনন্য! সম্প্রীতি, ঐক্য হল বাংলার চিরন্তন পরম্পরা। এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের টানে বাংলায় মানুষের সঙ্গে এক পাড়াতেই প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। যে সূত্রেই কলকাতার ভবানীপুর তকমা পেয়েছে ‘মিনি ভারতবর্ষ’-এর। পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনটা আরও নিবিড় হচ্ছে রাখির সূত্র ধরে। আগামী ৯ আগস্ট রাখিবন্ধন উৎসব। দেশেজুড়ে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হবে দিনটি। রাখির সুতোর টানে বাংলার সঙ্গে দেশের একাধিক রাজ্যের বন্ধন যেন আরও আঁটোসাঁটো হয়েছে।
বর্ধমানের কলনায় রাখি ক্লাস্টার রয়েছে। সেখানে তৈরি রাখি ছড়িয়ে গিয়েছে দেশের নানা প্রান্তে। কোনও রাখি রাধা-কৃষ্ণের মুখ দেওয়া, আবার কোনওটা ময়ূর আকৃতির। পুঁতি, ফুল, মালা দিয়ে কারুকার্য করা বিভিন্ন ধরনের রাখিও নজর কেড়েছে ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীদের। আবার ধান, বেল কাঠ, চালের নকশাতেও তৈরি হয়েছে রাখি। বাংলায় তৈরি প্রায় এক লক্ষ রাখি গিয়েছে বিশাখাপত্তম। ওড়িশায় গিয়েছে ৩৫ হাজার। গুজরাতে গিয়েছে দেড় লক্ষ। দিল্লিতে ৭০ হাজার। সর্বাধিক রাখি গিয়েছে মুম্বই। সেখানে গিয়েছে দু’লক্ষ দশ হাজার পিস। হরিয়ানায় গিয়েছে ৫০ হাজার। কালনার যেখানে রাখি তৈরি হয়েছে, সেই সোসাইটির সম্পাদক তপন মোদক বলেন, বাংলার তৈরি রাখির কদর বাড়ছে। যেকারণে দেশের একাধিক রাজ্য থেকে আমাদের কাছে বরাত আসছে রাখি তৈরি করে দেওয়ার জন্য। এমনও হয়েছে যে, সময়ের অভাবে ভিন রাজ্যের কয়েকজন ব্যবসায়ী-ক্রেতাকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। তাঁদের চাহিদামতো রাখি সময়ের অভাবে দেওয়া সম্ভব নয়।
রাখির মূল বার্তা হল বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা। কিন্তু গত কয়েকদিনে বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণের যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে, তাতে সম্পর্কের বন্ধনকে কোথাও আলগা হয়েছে, এমন আশঙ্কা অনেকের মনে দেখা গিয়েছে। এখানেই বাংলার রাখি প্রস্তুতকারক তপন মোদকের কথায়, পারস্পরিক সম্পর্কের মেলবন্ধন অটুট থাকুক। সব সম্প্রদায়ের মানুষে মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও নিবিড় হোক। কখনও চাই না বিদ্বেষ।
অন্যদিকে, রাখিবন্ধনের দিনটিকে ‘সংস্কৃতি দিবস’ হিসেবে পালন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্যের তরফে নীল-সাদায় রাখি তৈরি করা হয়েছে। তাতে রয়েছে রাজ্য সরকারের লোগো। এই রাখির ডিজাইন তৈরি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। ৬ লক্ষ ৬০ হাজার রাখি তৈরি করা হয়েছে। রাজ্যের যুব কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে সেগুলি ছড়িয়ে পড়েছে জেলায় জেলায়।