নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুধু চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ নয়, বাংলায় রেলের এমন একাধিক প্রকল্প আছে, যা শুরু করার জন্য এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) পর্যন্ত দেয়নি পূর্বতন সরকার। পর্যাপ্ত জমির ব্যবস্থা করে দেওয়া তো দূরের কথা! শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে বাংলার মানুষকে রেলের এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। বিগত সরকারের এই উন্নয়ন বিরোধী মানসিকতার জন্যই ধাক্কা খেয়েছে বাংলার অগ্রগতি। শনিবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্য-রেল বৈঠকে এভাবেই সদ্য ক্ষমতাচ্যুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ‘জনবিরোধী’ বলে দাগিয়ে দিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
বিগত ৩৬ বছরে শনিবারই প্রথম রাজ্য সরকার ও রেলের বৈঠক হয় কলকাতায়। রেলমন্ত্রীসহ কার্যত গোটা রেল বোর্ড বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রী, বিধায়ক এবং পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে। ‘ভারত মাতা কি জয়’ দিয়ে শুরু করে এবং ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার নিয়ে আসার জন্য রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রেলমন্ত্রী সরাসরি তোপ দাগেন পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে। বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার অগ্রগতি আটকে রাখা হয়েছিল। এবার আপনারা সবাই মিলে দেখিয়ে দিন যে উন্নয়ন কীভাবে হয়, কাজ কীভাবে এগোয়।’ একই সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে উপস্থিত প্রত্যেক জেলাশাসককে উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ করান রেলমন্ত্রী।
এদিন রেলমন্ত্রীর মুখে বারবার ফিরে এসেছে তৃণমূল জমানার অসহযোগিতার প্রসঙ্গ। বাংলায় রেল প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের ১৪ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত যে চেষ্টাই করি না কেন, টিএমসি সরকার কাজের জন্য অনুমতিই দিত না। অবস্থা এমন ছিল যে কিছু কাজের জন্য তো তারা কোর্টে চলে গিয়েছিল। এটা ছিল তাদের কাজ করার পদ্ধতি, এটা ছিল তাদের ভাবনার পদ্ধতি। আমি সংসদে খোলাখুলি বলেছিলাম যে তৃণমূল উন্নয়ন বিরোধী।’ প্রকল্পের জন্য জমি সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তৎকালীন সরকারের উদাসীন মনোভাবের চরম নিন্দা করেন তিনি।
রেলমন্ত্রীর এই কথার রেশ ধরে জেলাশাসকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন, ‘শুধুমাত্র মিটিংয়ে যোগদান করে নোট নিয়ে নিলেই চলবে না। কবে কোন জায়গায় রেলের জমি দিতে পারবেন, তার একটা ক্যালেন্ডার বানান।’ সীমান্তে কাঁটাতার দিতে বিএসএফ-কে যেমন জমি দেওয়া হয়েছে, এক্ষেত্রেও সেভাবে ‘মিশন মোডে’ অনুমোদন বা এনওসি এবং জমি দেওয়া হবে বলে রেলমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন শুভেন্দু।
এদিন পূর্বতন সরকারকে একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও। তাঁর কথায়, ‘বিগত যে সরকার ছিল, তারা কেন্দ্রের সঙ্গে একটা যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব করে রেখেছিল। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কটা এত খারাপ জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল যে পশ্চিমবাংলার মানুষ রেল এবং
কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য পরিষেবার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার তা হবে না।’