নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কোথাও নাম মুখ্যমন্ত্রী লড়কি বহেন যোজনা। কোথাও বলা হয় সুভদ্রা যোজনা। কোনও রাজ্যে নাম দেওয়া হয়েছে লাডলি বহেনা যোজনা। কোনও সরকার নাম রেখেছে গৃহলক্ষ্মী যোজনা। কারও নাম মাঈয়া সম্মান যোজনা। কেউ ঘোষণা করে রেখেছে মহিলা সম্মান নিধি। কিন্তু এখনও চালু করেনি। দেশের বিভিন্ন রাজ্যেই বাংলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ধাঁচের আর্থিক অনুদান ব্যবস্থা চালু হয়েছে বিগত বছরগুলিতে। কিন্তু বাংলা ছাড়া আর কোনও রাজ্যেই সব মহিলার জন্য এই প্রকল্পগুলি চালু নয়। মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল হলেই ভাতা পাওয়া যায় সব রাজ্যে। বিজেপি বাংলায় ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সোমবারই ঘোষণা করা হয়েছে যে, অন্নপূর্ণা প্রকল্পই হবে নতুন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যোজনা। দেশের মধ্যে এই প্রথম কোনো রাোজ্যে তিন হাজার টাকা করে মাসে মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকার পাঠাতে চলেছে। বাংলায় মহিলাদের জন্য এই বিশেষ সরকারি অনুদানের পরিমাণই দেশে সর্বাধিক। যা বাংলার মহিলাদের উল্লসিত হওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। বিজেপিও আনন্দিত তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরে। পয়লা জুন থেকে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে এই টাকা। কিন্তু একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বিজেপির কাছে উদ্বেগ হয়ে এসেছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির বার্তা। বাংলায় ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব মহিলাই যদি মাসে ৩ হাজার টাকা করে পেতে পারে, তাহলে বহু আগে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছে যে সব রাজ্য, তাদের মহিলারা কী দোষ করল? এই দাবি উঠতে শুরু করছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির বিরোধী দলই প্রধানত এই দাবি তুলে বিজেপি সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, বিহার, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখন্ড,দিল্লি, অসম, গোয়া সর্বত্র বিজেপি সরকার। কিন্তু কোনও রাজ্যেই তিন হাজার টাকা করে ভাতা মহিলারা পান না। বঙ্গ মহিলারাই সবথেকে ভাগ্যবান। দিল্লিতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্ষমতায় এসে এখনও পর্যন্ত বিজেপি সরকার দরিদ্র মহিলাদের মাসে ২৫০০ টাকা দেওয়া শুরু করতে পারেনি। বাংলায় ক্ষমতাসীন হওয়ার এক মাসের মধ্যেই অন্নপূর্ণা প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে। এবার দিল্লি সরকারও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১ জুন থেকে পোর্টাল চালু করা হবে। কিন্তু অন্য রাজ্যেও যখন দাবি জোরালো হবে যে, ৩ হাজার টাকা করে তারা কেন পাবেন না, তখন কীভাবে মোকাবিলা করা হবে বিরোধীদের, তা নিয়ে ওই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা চিন্তিত।



