Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শর্তের বোঝা নিয়েই ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনে বরাদ্দ বাড়ল বাংলার

বাংলার ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ ৭২০০ কোটি টাকা বাড়ল। গ্রামোন্নয়ন খাতে ৩৬২৩ কোটি টাকা পাচ্ছে রাজ্য। বিস্তারিত পড়ুন।

শর্তের বোঝা নিয়েই ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনে বরাদ্দ বাড়ল বাংলার
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: জুলাই মাসেই ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের টাকা পাবে বাংলা। তার আগে প্রয়োজনীয় অপারেশনাল গাইডলাইন পাঠিয়ে দেওয়া হল রাজ্যকে। একইসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হল আগামী পাঁচবছরে পশ্চিমবঙ্গ কত টাকা পেতে চলেছে। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র গ্রামোন্নয়ন খাতেই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ২৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাবে রাজ্য, যা পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বিগত পাঁচবছরে ছিল ২১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, বাড়তি প্রায় ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। তবে থাকছে শর্তের চাপও। মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ হল পারফরমেন্স গ্রান্ট, যা পাওয়া সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে রাজ্য অর্থ কমিশনের বরাদ্দ এবং গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয় বৃদ্ধির উপর। 

Advertisement

কেন্দ্রের পাঠানো গাইডলাইন অনুযায়ী, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মোট অর্থের ৬০ শতাংশ ছিল শর্তাধীন তহবিল, যা শুধুমাত্র পানীয় জল সরবরাহ এবং নিকাশি ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যেত আর বাকি ৪০ শতাংশ ছিল নিঃশর্ত তহবিল বাবদ বরাদ্দ। এই অর্থ গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যেত। এবার বাড়ানো হল নিঃশর্ত তহবিলের বরাদ্দ। কারণ, এই খাতেও এবার ৫০ শতাংশ অর্থ খরচ করতে পারবে রাজ্য। তবে সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের ক্ষেত্রে তার ২০ শতাংশের বেশি টাকা ব্যবহার করা যাবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, নিঃশর্ত তহবিলের অন্ত ২০ শতাংশ টাকা ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জন্য বরাদ্দ করতেই হবে রাজ্য অর্থ কমিশনকে।
কিন্তু, প্রথম বছরে কত টাকা পাবে রাজ্য? কেন্দ্রে পাঠানো হিসাব অনুযায়ী, ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের প্রথম বছর, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৩৬২৩ কোটি টাকা পাবে বাংলা। এই অর্থাঙ্ক স্বাভাবিকভাবেই পঞ্চদশ অর্থ কমিশন বাবদ পাওয়া প্রথম বছরে প্রাপ্ত বরাদ্দের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তবে প্রথম বছর জিটিএ অঞ্চলের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিগত অর্থ কমিশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থের অডিট রিপোর্ট জমা না-পড়ার কারণেই জিটিএ-র এবছর এই বাবদ টাকা প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের দ্বিতীয় বছরে তা জিটিএ পেয়ে যাবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির কাজকর্ম ধাক্কা খেয়েছে বলেই খবর পেয়েছেন রাজ্য স্তরের আধিকারিকরা। কারণ, অধিকাংশ জায়গায় ঘাসফুল শিবিরের বোর্ড থাকায়, পঞ্চায়েতের একটি বড়ো অংশের নির্বাচিত সদস্যরা অফিসে আসছেন না। তাই কাজ এগোনোর ক্ষেত্রে কর্মী-অফিসারদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ হওয়া বাকি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জুলাই মাস থেকে ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশন ছাড়াও একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ মসৃণভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়েও চিন্তায় রয়েছে প্রশাসনিক মহল। পুর এলাকার জন্য ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশন থেকে প্রায় ২১ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ