Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহরে উত্তুরে হাওয়ায় চামড়ায় টান, ব্যাগে গরম জামা ভরে শীতের শুরুয়াত বাঙালির

ভোররাতে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে ফ্যানের সুইচ। গায়ে টেনে নিতে হচ্ছে পাতলা চাদর। বইছে উত্তুরে হাওয়া

শহরে উত্তুরে হাওয়ায় চামড়ায় টান, ব্যাগে গরম জামা ভরে শীতের শুরুয়াত বাঙালির
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোররাতে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে ফ্যানের সুইচ। গায়ে টেনে নিতে হচ্ছে পাতলা চাদর। বইছে উত্তুরে হাওয়া। কনকনে ঠান্ডা না হলেও সেই বাতাসে হিমেল পরশ স্পষ্ট। ঠোঁট শুকোচ্ছে। গায়ে-মুখে কিছু না মাখলে খসখসে মনে হচ্ছে ত্বক। অর্থাৎ, নভেম্বরের প্রথমার্ধেই বাঙালির শীতের শুরুয়াত হয়ে গেল। তাপমাত্রার পারদ-পতনও সেই কথা জানান দিচ্ছে। রবিবারই ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে যায় কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তাই গরম জামাকাপড়, নিদেনপক্ষে একটা মাফলার বা টুপি রাখতেই হচ্ছে ব্যাগে। কারণ, রাতে বাড়ি ফেরার সময় ঠান্ডা লেগে যেতে পারে! 

Advertisement

ভোরবেলা বা সকালের দিকে ঠান্ডা থাকলেও দুপুরের দিকে রাস্তাঘাটে গরম লাগছে। ছায়ায় কোথাও দাঁড়িয়ে পড়লেই আর গরম লাগছে না। বরং হাল্কা ঠান্ডা টের পাওয়া যাচ্ছে। শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন মাঝবয়সি এক ব্যক্তি। ফুলহাতা জামার বোতাম লাগাতে লাগাতে তিনি বলেন, ‘বেশ একটা ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব এসে পড়েছে। অনেকটা হেঁটে এলাম বলে একটু গরম লাগছিল। কিন্তু মৃদু হাওয়া দিলে আবার ঠান্ডা লাগছে।’ যাঁরা প্রাতর্ভ্রমণে বেরন, তাঁরা বলছেন, ‘ভোরে ভালোই কুয়াশা হচ্ছে এখন। অন্তত একটা টুপি না হলে হচ্ছে না।’ অনেকেই পেশার তাগিদে সারা বছর মফসসল থেকে ভোর বা সকালের ট্রেন ধরে কলকাতায় আসেন। হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশনে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে টুপি, সোয়েটার ব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন। বারাকপুরের এক বাসিন্দা শিয়ালদহ স্টেশনে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, ‘আমাকে খুব সকালে বেরতে হয়। তখন বেশ ভালোই ঠান্ডা থাকে। তারপর ট্রেনে যা হাওয়া দেয়, গায়ে একটা গরম জামা না চাপালে সমস্যা।’ গিগ ওয়ার্কার অর্থাত্ ডেলিভারি বয়দের কার্যত সারারাত বাইক চালিয়ে কাজ করতে হয়। গড়িয়ার এক গিগ কর্মী তন্ময় রায় বলছিলেন, ‘রাতের দিকে তো খুব ঠান্ডা লাগে। আমাদের যা কাজ, তাতে জ্যাকেট বা গরম জামা ছাড়া কোনও উপায় নেই।’ 
শীতের ইনিংস যে শুরু হয়ে গিয়েছে, ঘরে ঘরে সর্দি-কাশির প্রাদুর্ভাবও তার প্রমাণ দিচ্ছে। তবে ঠান্ডা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। নিউটাউনের বাসিন্দা, পেশায় আইটি কর্মী স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘এখনও ঠান্ডার ঠ পড়েনি। তাতেই কিছু লোকজনকে দেখছি, টুপি-মাফলার কোনও কিছুই বাদ দিচ্ছে না। আরও একটু ঠান্ডা পড়লে এরা কী করবে!’ এবার কলকাতায় কতটা ঠান্ডা পড়বে বা কতদিন দীর্ঘস্থায়ী হবে, সে তো সময় বলবে। কিন্তু বাঙালির প্রিয় দার্জিলিং এখনই ১১ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছে। বরফ কি পড়তে পারে? এরকম প্রশ্ন ইতিমধ্যেই বাঙালির মনে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। তোড়জোড় শুরু হয়েছে শীত উদযাপনের।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ