নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যাটে-বলে ঠিকমতো লাগলেই গুড়ুম। অবধারিত ছক্কা। দূর থেকে সে ব্যাট-বল দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে খুদেরা। ‘ব্যাট-বল কিনে দাও’-বলে বায়না। মা-বাবারা চারপাশে অতকিছু তখনও দেখে উঠতে পারেননি। আবদার শুনে অবাক। ‘বাজির বাজারে ব্যাট-বল কোথায় পাব?’ বলে বায়নার হাত থেকে মুক্তি পেতে চাইলেন। এবার ছেলে বা মেয়ে হাত তুলে দেখাল ঝুলছে ব্যাট-বল। শহিদ মিনারের বাজি বাজারের দোকানগুলিতে সত্যি সত্যিই ঝুলছে অসংখ্য ব্যাট-বল। ধোনি, কোহলিদের ছবি ছাপা তাতে। সেই বল-ব্যাট আসলে আস্ত একখানা বাজি। পড়পড় করে পুড়বে। গুড়ুম করে ফাটবে। ধোঁষা বেরবে রংবেরঙের। কিন্তু দেখতে অবিকল ছোটদের খেলনা ব্যাটে-বলের মতো।
ব্যাটের নীচে রয়েছে সলতে। সেখানে আগুন দিলে মস্ত বড় রংমশালের চেহারা নেবে ব্যাট। ব্যাটের সঙ্গে একটি বল। সেটি আগুনের ছোঁয়া পেয়ে ধোঁয়ার মতো রং ছড়াবে। বাজি বাজারে এমন একখানা অসাধারণ জিনিস দেখে সকলেই অবাক। অনেকে এসে দোকানদারকে বলে যাচ্ছেন, ‘এমন একখানা দারুণ জিনিস নিয়ে এসেছেন, বাচ্চারা দেখে তো লাফাচ্ছে। কিন্তু দাম কত?’ একেক দোকানে একেকরকম দাম ব্যাট-বল বাজির। মোটামুটি দরদাম করলে ২০০ টাকায় মিলছে। আর যাদের ব্যাট-বলে খুব একটা আগ্রহ নেই। তাঁরা মুগ্ধ ময়ূর বাজি দেখে। অর্ধচন্দ্রাকৃতি বাক্সে সেই বাজি দেখেই অনেকে কেনার জন্য এগোচ্ছেন। দোকানিরা বলছেন, ‘বাজি ফাটালে পেখম মেলা ময়ূরের মতো আলোর রোশনাই ছড়িয়ে পড়বে বাতাসে। শুধু একটা রঙের নয়, বেশ কয়েকটি রঙের আলো তুবড়ির মতো ছিটকে ছিটকে উঠবে।’ এই বাজির দাম কিন্তু বেশ বেশি। কেউ বলছেন, ৭০০ টাকা। কেউ আরও দাম চড়াচ্ছেন।
দোকানদারদের দাবি, এই সমস্ত বাজিই সবুজ বাজি। দূষণ এই বাজি ছড়াবে না। এক ক্রেতার কথায়, ‘বাক্সগুলো এত সুন্দর করে সাজায় যে দেখলেই কিনতে ইচ্ছে করে। তারপর গাল ভরা নামও দিয়েছে। কিন্তু এত দাম দিয়ে কিনে নিয়ে গিয়েও যদি তেমনভাবে না ফাটে, তাহলে তো খুবই খারাপ হাল হবে। কিন্তু না কিনলে তো বুঝতেও পারব না।’ এখন যদিও অনেকে বাজির নাম দেখে গুগল করে দেখে নিচ্ছেন, কেমন করে বাজি ফাটবে জেনে নিলেন। যার ফলে বাজি কিনতেও সুবিধা মানুষের। ফলে ব্যাটবল হোক বা ময়ূর বিক্রিও হচ্ছে। কিনে মুখে হাসি খুদের। খুশি মা-বাবাও। বিক্রেতা তো খুশি-ই। নিজস্ব চিত্র