Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মণ্ডপে বাঙালি মায়ের নিজস্ব গন্ধের ‘পরশ’ অভিনব আয়োজন মার্কণ্ডগলির দুর্গাপুজোয়

পুজো শুরুর কালে দর্শকের জন্য ছিল দৃশ্যসুখ। ক্রমশ থিম সংস্কৃতি তাতে শ্রাব্য অর্থাৎ কানে শোনার সুযোগ এনে দিয়েছে

মণ্ডপে বাঙালি মায়ের নিজস্ব গন্ধের ‘পরশ’ অভিনব আয়োজন মার্কণ্ডগলির দুর্গাপুজোয়
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুজো শুরুর কালে দর্শকের জন্য ছিল দৃশ্যসুখ। ক্রমশ থিম সংস্কৃতি তাতে শ্রাব্য অর্থাৎ কানে শোনার সুযোগ এনে দিয়েছে। অনেক জায়গাতেই লাইট অ্যান্ড সাউন্ড, থিম গান এমনকি পর্দায় চলচ্চিত্রের মতো করে গল্প শোনানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মহা সমারোহে চলছে দৃশ্য-শ্রাব্যের মহাযজ্ঞ। কিন্তু সময় এগিয়ে যায়। নিজেকে অগ্রসর করার এই প্রক্রিয়ায় এবার জুড়ছে গন্ধ নেওয়ার সুযোগ। আরও ভালো করে বললে, থিমের গন্ধ নিতে পারবেন দর্শকরা। একাধারে আনন্দ আর সুগন্ধ।

Advertisement

নিজেদের রজতজয়ন্তী বর্ষের প্রাক্কালে প্রায় অভিনব এই আয়োজন করছে হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়ার এক পুজো কমিটি। তবে চমকের জন্য অপেক্ষাও দীর্ঘ করাতে চান না উদ্যোক্তারা। তাই চতুর্থীতেই পুজো উদ্বোধন করা হবে। কিন্তু বিষয়টি কি? চুঁচুড়ার মার্কণ্ডগলি সর্বজনীনের এবারের থিম ‘পরশ’। তা পরশের সঙ্গে ঘ্রাণের কেমন সম্পর্ক? তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আসলে ‘পরশ’ বলতে বোঝানো হচ্ছে মায়ের পরশ বা স্পর্শ। সেই মা যতটা না দেবী দশভুজা তার থেকেও বেশি আম বাঙালির ‘ঘরের দশভুজা’। যিনি সন্তান পালনকারী মা। যদিও দেবীকে লৌকিক করে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আগেই বাঙালি দশভুজাকে ‘উমা’ করে নিয়েছে। তিনিও সন্তানবতী, ঘরের মেয়ে। ফলে একাধারে ধরা হচ্ছে দেবী-মা’কে। মায়ের পরশের সঙ্গে তাঁর সন্তানরা তাঁর নিজস্ব ঘ্রাণও পায়। এই ঘ্রাণকেই দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। যা অভিনব বললেও কম বলা হয়। মায়ের ঘ্রাণ কেমন, সে প্রশ্নের উত্তর বড় কঠিন। কিন্তু দিনভর রান্নাঘরে মায়েদের অনেকটা সময় কেটে যায়। সন্তানরা মূলত, তেল-হলুদ, মশলা, মায়ের সন্তানবৎসল আবেগের এক মিশ্রিত গন্ধ পেয়ে থাকে। সেই গন্ধটিকেই বিশেষভাবে একজন বিশেষজ্ঞকে দিয়ে নির্মাণ করানো হচ্ছে। পুজো মণ্ডপে এলে দর্শকরা সেই গন্ধই পাবেন। পুজো উদ্যোক্তা সৌমিক নন্দী বলেন, এবার আমাদের ৪৮তম বর্ষ। তাই বিশেষ আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। সন্তানের জন্য মায়ের গন্ধ নির্মাণ তারই অঙ্গ। ‘পরশ’ থিমের প্রাণ অবশ্য শুধু গন্ধ নয়। বাংলার সহজাত শব্দ, মায়ের আঁচল ধরা সন্তান। তাই আমরা মায়ের আঁচলকেও মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করছি। সঙ্গে আলোর বিশেষ খেলা, থিম গান, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো থাকবে। সবমিলিয়ে এক পরিপূর্ণ প্যাকেজ।
মৃন্ময়ী দেবী আধুনিক সাজে সন্তানদের নিয়ে থাকবেন মন্দির চাতালে। আর সামনের প্রাঙ্গণ হয়ে উঠবে মায়ের ‘পরশ’ প্রাপ্তির ক্ষেত্র। নানা রকমের শাড়ির আঁচল এবং অন্যান্য অংশ ব্যবহার হচ্ছে মণ্ডপসজ্জায়। শাড়ির কারুকার্য নিজেই একটি দর্শনীয় বস্তু হবে। তাতে থাকবে বিশেষ আলোর ঝলক। আর ওই যে, আনন্দের বাসরে গন্ধের আহ্বান। থাকবে সন্তানবৎসল মায়ের নিজস্ব সুঘ্রাণের কৃত্রিম কিন্তু অভিনব সংযোজন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ