সংবাদদাতা, বারুইপুর: বাংলার বৈশাখ থেকে চৈত্র। ইংরেজির জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস লেখা। রয়েছে একে চন্দ্র, দুইয়ে পক্ষ থেকে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ। এ সবই তুলে ধরা হয়েছে গ্রামের রাস্তার দু’পাশে থাকা বৈদ্যুতিক পোস্টে। স্কুলে যাওযার পথে সেই লেখা মুখস্থ করছে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা। এমন চিত্র সুন্দরবনের কুলতলির দেউলবাড়ি গ্রামে। এ যেন খোলা আকাশের নীচে পাঠশালা। এই উদ্যোগ নিয়েছেন গ্রামেরই ছেলে পুলক মণ্ডল।
পুলকের লক্ষ্য, সুন্দরবনের ছেলে-মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশ ঘটানো। দেউলবাড়ি গ্রামে ঢুকলে দেখা যাবে ৪৩ থেকে ৪৫ টি পোস্টে এমন ছবি। গ্রামের রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে শিশুরা দাঁড়িয়ে তা মন দিয়ে দেখে মুখস্থ করছে। পোস্টে আছে, ১ থেকে ১০ এর নামতা।
৩৬৫ দিনে যে ১ বছর হয় তার উল্লেখ। ৩০ দিনে একমাসের কথাও লেখা।
পুলক বলেন, ‘রাস্তায় যেতে যেতে পড়ুয়াদের চোখে পড়বেই এই জিনিস। প্রতিদিন দেখার ফলে তাদের আর নতুন করে বই পড়তে হবে না। লক্ষ্য, গ্রামের সব পোস্টে শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারে থাকা বৈদুতিক পোস্টগুলিতে ছিল ছেঁড়া পোস্টার। আবর্জনায় ঢাকা সেগুলি। এই দৃশ্য বদলাতে স্থানীয়দের নিয়ে পোস্টগুলি পরিষ্কার করে সেখানে তুলি দিয়ে ছোটদের জন্য এমন জিনিস তুলে ধরেছি।’ এ কাজের তারিফ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। গৃহবধূ মিনতি ভুইঞাঁ বলেন, ‘আমরা ছেলে-মেয়েদের নিয়ে স্কুল যেতে গিয়ে ওদের পড়িয়ে দিচ্ছি। আগে কেউ তাকাতো না। এখন শিশুরা নিজেরাই উৎসাহ নিয়ে দেখে।’
গৃহবধূ রমা ঘোষ বলেন, ‘এতে ছেলে-মেয়েদের পড়ার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।’ সুন্দরবনের এই প্রান্তিক এলাকায় পুলকের উদ্যোগে আগে গড়ে উঠেছিল একটাকার পাঠশালা। তাতে পুলক নিজেই শিক্ষকের ভূমিকায়। এবার তাঁর পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষাদান নজর কেড়েছে গোটা গ্রামের। নিজস্ব চিত্র