সংবাদদাতা, কান্দি: কেউ বাস করছেন চালা ঘরে। কেউ আবার দিন কাটাচ্ছেন অন্যের বাড়িতে। বুধবার এমন ২৬৩টি পরিবারের হাতে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয়পর্বের প্রথম কিস্তির টাকা তুলে দেওয়া হল। ভরতপুর-১ ব্লকের আলুগ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যেক উপভোক্তার হাতে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। যার ফলে উপভোক্তাদের মুখে ফুটেছে হাসি। পঞ্চায়েত ভবন সংলগ্ন এলাকার হাসপাতাল মাঠে ওই আনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
স্থানীয় আঙারপুর গ্রামের আজমিরা বিবি, সাদেরা বিবিরা বলেন, নিজেদের পাকা বাড়ি তৈরির ক্ষমতা নেই। তাই তাকিয়েছিলেন বাংলার বাড়ির দিকে। তবে, আজ তাঁদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছি। আজমিরা বলেন, তালিকায় নাম থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার জন্য আগে ঘর মেলেনি। তবে, স্থানীয় পঞ্চায়েত ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্যে এবার কষ্ট লাঘব হবে। সাদেরা চোখ মুছে বললেন, ভগবান এই সরকারকে আরও বহুবছর ক্ষমতায় রাখুক।
হামিদপুর গ্রামে ইয়ারবক্স শেখ, আরজ শেখরাও এদিন প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। তাঁরা বলেন, শরীরে বল নেই বলে রোজগারও করতে পারি না। নিজের বাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখলেও তা পূরণ করার অবস্থায় নেই। তবে, রাজ্য সরকার বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাকা দিয়ে আমাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার সুযোগ করে দিয়েছে। একই বক্তব্য মদনপুর গ্রামের দুলাল শেখেরও।প্রসঙ্গত, ওই পঞ্চায়েত এলাকার ২০টি সংসদে রয়েছে ২৬টি গ্রাম। কমবেশি প্রতিটি সংসদের উপভোক্তারাই এদিন বাংলার বাড়ি পেয়েছেন। প্রত্যেককে ৬০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধান জাহিরুল শেখ বলেন, এদিন পঞ্চায়েত এলাকার মোট ২৬৩ জনের হাতে প্রথম কিস্তির টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে আরও ৬৩জন এই প্রকল্পের টাকা পেতে চলেছেন। প্রবীণ পঞ্চায়েত সদস্য নিশারউদ্দিন শেখ বলেন, কয়েকবার পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এই মানবিক মুখ সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। এই সরকারের সঙ্গে থেকে কাজ করতে পারায় গর্ববোধ করি।