শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: ফের সেই অপরীক্ষিত সফটওয়্যারের কাঁটা! আর এবার কোপ ৬ নম্বর ফর্মে!
শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: ফের সেই অপরীক্ষিত সফটওয়্যারের কাঁটা! আর এবার কোপ ৬ নম্বর ফর্মে!
আঠারো বছরের নতুন ভোটারের জন্য এই সমস্যা নয়। তাঁরা ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারছেন এবং পারবেন। কিন্তু এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের শিরে সংক্রান্তি থেকেই গেল। কারণ, ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের নামে যে ‘বৈধ’ ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা কিছুতেই ফর্ম ৬’এর সুবিধা পাচ্ছেন না। আবেদন জানালেও তা বাতিল হচ্ছে।
কমিশনের অ্যাপের মাধ্যমে ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে বাংলায় লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে লাগাতার অভিযোগ করে এসেছে তৃণমূল-সিপিএম। আরও বহু লক্ষ ভোটারের নাম ঠেলে দেওয়া হয়েছে অ্যাডজুডিকেশন তালিকায়। কিন্তু যথাযথ নথি দেওয়া সত্ত্বেও যাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি, কিংবা যে জীবিত ভোটাররা ‘ডিলিট’ হয়ে গিয়েছেন, তাঁরা আর নাম তুলতে পারছেন না। হাতে ফর্ম পূরণ করে বিএলওকে দিলে তা অ্যাপে আপলোড করা যাচ্ছে না। আবার অনলাইনে ফর্ম ফিল আপ করলে ‘অ্যাকনলেজমেন্ট’ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আটকে যাচ্ছে তারপর। সৌজন্যে সেই সফটওয়্যার। প্রশ্ন উঠছে, এসআইআরে ‘বাছাই করে বাদ দেওয়া’ ভোটাররা যাতে আসন্ন ভোটে কোনোভাবে ভোট দিতে না পারেন, তার জন্যই কি এই ব্যবস্থা? এটাও কি গেরুয়া স্বার্থসিদ্ধির অঙ্গ?
কীভাবে বাদ পড়া ভোটারের ৬ নম্বর ফর্ম আটকে দেওয়া হচ্ছে? সোনারপুর উত্তর বিধানভার ২০৬ নম্বর পার্টের ভোটার শুভম কর (নাম পরিবর্তিত) নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। শুভমের বাবার নামের বানান নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁকে ও তাঁর বোনকে শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। শুভমের দাবি, শুনানিতে দু’জনেই জন্ম শংসাপত্রের কপি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, শুভমের বোনের নাম তালিকায় থাকলেও তাঁর নাম বাদ গিয়েছে। অর্থাৎ একই বাবার দুই সন্তানের মধ্যেই একজন বৈধ, আর অন্যজন অবৈধ ভোটার। সংশ্লিষ্ট পার্টের বুথ লেভেল অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কিচ্ছু করার নেই। নতুন করে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে আবেদন জানাতে হবে। সেই মতো তিনি ফর্মের নির্দিষ্ট অংশে বাবার নাম উল্লেখ করে তা পূরণ করেন এবং বিএলওর কাছে জমা দেন। কিন্তু এরপরই বিএলও তাঁকে জানিয়ে দেন, ওই ফর্ম আপলোড করা যাচ্ছে না। অ্যাপ নাকি ফর্ম গ্রহণই করছে না। অগত্যা বাবার নামের পরিবর্তে ফর্মে মায়ের নাম উল্লেখ করে জমা দিলে অ্যাপে তা আপলোড হয়।
এটাই এখন রোজকার ‘কর্মকাণ্ড’ হয়ে গিয়েছে। যাঁদের ৬ নম্বর ফর্ম বাতিল হচ্ছে, তাঁদের সিংহভাগই এসআইআরের বাদ যাওয়া ভোটার। কারও বাবার নাম-পদবির গোলযোগ, কারও বা নামের বানানে ভুল। সেইসব নাম চিহ্নিত করে রেখেছে সফটওয়্যার। শুভমের মতো ভোটার তার অন্যতম উদাহরণ। চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের উদ্দেশে কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন, এঁরা ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যোগ্য হিসাবে বিবেচিত হলে, তাঁদের নাম ফের তালিকাভুক্ত হবে। কিন্তু এই আশ্বাস যে নিছক কথার কথা, তা ফের প্রমাণিত।