


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় তৃণমূলের এক নেতার ডান হাত বলে পরিচিত শেখ আজাদকে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ। তার সঙ্গে ধরা হয়েছে আরও পাঁচজনকে। মঙ্গলবার রাতে তাদের রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় পাকড়াও করা হয় বলে খবর। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১০টি সেভেন এম এম পিস্তল ও ১৫০ রাউন্ড কার্তুজ। আজাদ তৃণমূল জমানায় ওই এলাকায় ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ন্ত্রণ করত বলে অভিযোগ।
বেঙ্গল এসটিএফের কাছে খবর আসে, রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসা চলছে। এই আগ্নেয়াস্ত্র আসছে বিহার থেকে। দুর্গাপুরের বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন এই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসছে মুঙ্গের থেকে। তা পৌঁছে দিচ্ছে নারায়নপুর এলাকায়। এখান থেকে তা কিনে নিয়ে যাচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনার বেআইনি অস্ত্র কারবারিরা। মূলত সেভেন এম এম পিস্তলই আনা হচ্ছে। তা কিনছে শেখ আজাদসহ বেশ কয়েকজন। তারপরই এসটিএফের অফিসাররা এই অস্ত্র কারবারিদের বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেন। জোগাড় করা হয় তাদের মোবাইল নম্বর। সেখান থেকে জানা যায়, বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসছে ফিরোজ। নিউটাউন এলাকায় হাতবদল হবে। সেখানে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। ফিরোজ সেখানে পৌঁছতেই তাকে ফলো করতে শুরু করেন অফিসাররা। আগ্নেয়াস্ত্র ডেলিভারি করার সময় ছ’জনকে হাতেনাতে ধরা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, নিউটউনে এই কারবার চালাচ্ছিল আজাদ। তাকে ফিরোজ এই আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করত। প্রাথমিকভাবে অফিসাররা জানতে পারছেন, এই আজাদ রাজারহাট-গোপালপুরের এত তৃণমূল নেতার ডান হাত। তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ জমা পড়ে পুলিশের কাছে। পালাবদলের পরই এই দুষ্কৃতী বেপাত্তা হয়ে যায়। মূলত জমি-.ভেড়ি দখলের জন্য এই আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হতো। পাশাপাশি তদন্তকারীরা জেনেছেন, রাজারহাট এলাকায় একাধিক সিন্ডিকেট চলছে। তাতে আর্মস কারবারের সিন্ডিকেটও রয়েছে। সূত্রের খবর, আজাদ ওই এলাকায় সিন্ডিকেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত হলে জানা যাচ্ছে। এক একটি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি হতো তিরিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকায়। সেই সঙ্গে গুলি পিছু দাম নেওয়া হতো চার থেকে পাঁচশো টাকা। এখনও পর্যন্ত কারা কারা এই আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছে, ধৃতদের দেরা করে জানতে চায় এসটিএফ।