সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: মোদি-শাহের ‘ডাবল ইঞ্জিন-এর ভালভ যে আসলে ফুটো, তা ফাঁস করে দিলেন বিহারের বিজেপি সাংসদ!
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: মোদি-শাহের ‘ডাবল ইঞ্জিন-এর ভালভ যে আসলে ফুটো, তা ফাঁস করে দিলেন বিহারের বিজেপি সাংসদ!
মঙ্গলবার আসানসোলের বার্নপুরে ‘বিহার দিবস’ উদযাপনের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বিহারের মধুবনীর ওই সাংসদ অশোককুমার যাদব। আয়োজক ছিল গেরুয়া শিবির। সেখানেই বাংলা সম্পর্কে বিজেপির যাবতীয় অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘বিহারের দু’কোটি লোক রোজগারের জন্য বাইরে থাকেন। বাংলার মাটি বিহারের মানুষকে রোজগার দিয়েছে। সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার দিয়েছে। বাংলাকে আমার প্রণাম।’ একই সঙ্গে ধন্যবাদ জানাতেও ভোলেননি অশোককুমার। সাংসদের পাশে তখন বসে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অগ্নিমিত্রা পল। অশোককুমারের গলায় বাংলার ভূয়সী প্রশংসা শুনে দৃশ্যতই তিনি বেশ বিড়ম্বনায় পড়েন। পরে অবশ্য অগ্নিমিত্রা ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। বিজেপিকে আক্রমণ করতে অশোককুমারের বক্তব্যকে লুফে নেন তৃণমূলের মন্ত্রী মলয় ঘটক। তিনি বলেন, ‘রাজ্য বিজেপি বাংলার ভালো চায় না। ওরা রাজ্যের নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়। বিহারের এমপির কথা থেকেই আরও একবার বিজেপির মুখোশ খুলে গেল।’
বাংলায় কাজ নেই। ঘর ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন শ্রমিকরা। অবাঙালিরা অত্যাচারিত, বঞ্চিত, অবহেলিত—অষ্টপ্রহর বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেড এমন সব অভিযোগ তুলে আসছে। অবস্থার পরিবর্তনে ‘ডাবল ইঞ্জিন’-এর সরকার দরকার বলে গলা ফাটাচ্ছেন পদ্মের শীর্ষনেতারা। ঘটনাচক্রে বিহারে এখন ‘ডাবল ইঞ্জিন’। স্বভাবতই সেখানে ‘ফিল-গুড’, এমনটাই আশা করেন অনেকেই। কিন্তু বিহারের বিজেপি সাংসদই রাখঢাক না করে জানিয়ে দিলেন, সে রাজ্যের দু’কোটি মানুষ রুজিরুটির খোঁজে ঘর ছেড়েছেন। গত বছর বিধানসভায় শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভিনরাজ্যে গিয়েছেন ২১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৩৭ জন। তা হলে ‘ডাবল ইঞ্জিন’-এ চলা বিহারে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা এত বেশি কেন? বিজেপি সাংসদের বক্তব্যকে অস্ত্র করে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। অবাঙালিদের উপর অত্যাচার নিয়েও বঙ্গ বিজেপির নালিশকে মান্যতা দেননি অশোককুমার। তিনি বলেন, ‘অত্যাচারের ঘটনা আমার জানা নেই। বিহারীদের সম্মান দিয়েছে বাংলা।’ বেগতিক বুঝে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘উনি তো ধন্যবাদ দেননি। আগে বিহারে যেমন জঙ্গলরাজ চলত, বাংলায় এখন তা চলছে।’ বিজেপি নেত্রীর দাবিকে আমল না দিয়েই অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন অশোককুমার।