প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের টাকা পাওয়ার অন্যতম শর্ত রাজ্য অর্থ কমিশনের কাজকর্মের মাপকাঠি। আর এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেই পশ্চিমবঙ্গ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এই খাতের টাকা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বলেই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতীরাজ মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং। অর্থাৎ, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের পর পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকাতেও যে মোদি সরকার কোপ বসাতে চলেছে তা পরিষ্কার হয়ে গেল রাজ্যের কাছে। কিন্তু, শেষ না দেখে হাল ছাড়তে নারাজ রাজ্যও। বিধানসভায় রাজ্যের ষষ্ঠ অর্থ কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার শর্ত পালনের পরেই বাংলার হকের টাকার দাবিতে নয়াদিল্লি গেল রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের প্রতিনিধি দল। তাদের লক্ষ্য, কেন্দ্রের দেওয়া সমস্ত শর্ত মেনে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের সামনে তুলে ধরা। সেই সঙ্গে চলতি অর্থবর্ষের আটকে থাকা প্রথম কিস্তির ১৩০০ কোটি টাকা দ্রুত ছাড়ার দাবিও জানিয়ে আসবেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, জুলাই মাসে প্রথম কিস্তির টাকা দাবি করাতেই রাজ্যকে পাল্টা একটি চিঠি পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। তাতেই কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের নিয়ম মনে করিয়ে দিয়ে, নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছিল যে রাজ্য ষষ্ঠ কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় জমা না পড়লে বাংলার টাকা ছাড়া সম্ভব নয়। বিধানসভায় এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার দায়িত্ব অর্থদপ্তরের। এই চিঠি পেয়ে রাজ্য খোঁজখবর করে জানতে পারে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে (রাজ্য পঞ্চম অর্থ কমিশনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তিনমাস আগে) গঠিত হয়েছে ষষ্ঠ অর্থ কমিশন। সেটি কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। ওইসঙ্গে এর রিপোর্টও জমা পড়েছে রাজ্য অর্থদপ্তরে। শুধু বিধানসভায় তা জমা দেওয়া বাকি ছিল। আর এই কারণেই কেন্দ্রের এই হুঁশিয়ারি। ফলে বাকি সমস্ত কাজ সেরে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। আর এই ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ নিয়েই পঞ্চায়েত দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত দল দিল্লি গিয়েছে।
এই বিষয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, সামান্য কারণে পশ্চিমবঙ্গকে হেনস্তার ঘটনা নতুন কিছু নয়। হাজার অন্যায় করলেও ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যের টাকা কোনও দিন আটকানো হয় না। সমস্ত নিয়ম যে মানা হয়েছে, রাজ্যের টিম গিয়ে সেই বিষয়টি কেন্দ্রকে জানিয়ে রাখল।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলাশাসকদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক নিয়েছেন পঞ্চায়েত সচিব পি উলগানাথন। সেখানে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের পরে থাকা টাকার কাজ দ্রুত শেষ করতে বলার পাশপাশি আগামী দিনে যে কাজ হবে তার দরপত্র ডাকার কাজ এগিয়ে রাখতেও বলা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, দরপত্র তৈরি রাখতে বলার অর্থাৎ, সমস্ত শর্ত পূরণের পর কেন্দ্র ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের টাকা ছেড়ে দেবে বলেই আশাবাদী রাজ্য। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাকি কাজ দ্রুত শেষ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়া বাংলার বাড়ির তথ্যও পোর্টালে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে যে ১৬ লক্ষ আবেদনকারী বাংলার বাড়ির প্রথম কিস্তির টাকা পাবেন, তার যাচাইয়ের কাজও শুরু করে দিতে বলা হয়েছে।