নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ঘিরে অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি। মঙ্গলবার খসড়া তালিকা প্রকাশের পর আরও কুঁকড়ে গিয়েছে পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতা। এসআইআর শুরুর সময় থেকে তাঁরা হুঙ্কার দিয়েছিলেন বাংলায় কোটি কোটি ভুয়ো নাম বাদ যাবে। কিন্তু খসড়া তালিকায় বাদ পড়া নামের সংখ্যা তার ধারে কাছে পৌঁছায়নি। গোদের উপর বিষ ফোঁড়া হিসেবে সামনে আসছে এই মুহূর্তে ধোঁয়াশায় থাকা মতুয়া জনগোষ্ঠী। কারণ, সর্বোচ্চ আদালত ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছে, আগে নাগরিক পরে ভোটার। অর্থাৎ মতুয়াদের আগে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে। তারপর ভোটার তালিকায় নাম উঠবে। এহেন পরিস্থিতিতে ‘ত্রাতা’ হিসেবে বঙ্গ ব্রিগেড পাশে চাইছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। আগামী শনিবার অন্যতম মতুয়াগড় রানাঘাটে আসছেন দেশের প্রশাসনিক প্রধান। ভাষণে তিনি মতুয়াদের নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকার নিয়ে ইতিবাচক ও আশ্বাসের বার্তা দিন, মনেপ্রাণে চাইছেন বঙ্গ বিজেপি নেতারা। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ভোট রাজনৈতিক প্রচারে যে রাজ্যে যান, সেখানকার পার্টি থেকে পরিস্থিতি সংক্রান্ত আগাম ফিডব্যাক চাওয়া হয়। কোন কোন ইস্যুগুলি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেবিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্য নেতাদের মতামত সেখানে থাকে। এক্ষেত্রে রাজ্য বিজেপির তরফে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ ‘টকিং’ পয়েন্ট হিসেবে এসআইআর, মতুয়া ভোট এবং সিএএ মাধ্যমে নাগরিকত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।
এসআইআর পর্বে লাভের বদলে যে বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তা মানছেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক তথা মতুয়া ঠাকুরবাড়ির অন্যতম সদস্য সুব্রত ঠাকুর বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন বলেন, মহকুমায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ‘নো-ম্যাপড’ ভোটার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৮০-৯০ শতাংশই মতুয়া। যে ১১টি নথি চাওয়া হয়েছে, শুনানিতে তার একটিও তাঁরা দেখাতে পারবেন না। আমরা চাই, সিএএ’কে রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করে এঁদের নাম ভোটার তালিকায় রাখতে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তো জানিয়ে দিয়েছে, আগে নাগরিকত্ব, পরে ভোটার। সেক্ষেত্রে এই জটিলতা মিটবে কীভাবে? সুব্রতবাবু বলেন, আজ না হয় কাল, এঁরা নাগরিকত্ব পাবেনই। তবে সেটা দ্রুত হলে, নাগরিকত্বের শংসাপত্র নিয়ে তাঁরা ভোটার হওয়ার আবেদন করতে পারবেন। এখনও দু’মাস সময় রয়েছে। মতুয়াদের নাগরিকত্ব যাতে দ্রুত হয়, তার জন্য মতুয়া সংঘ ও দলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে আবেদন করা হবে। এ বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ তথা মতুয়া সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর বলেন, এটা নতুন একটা ভাঁওতা। মতুয়াদের আরও দু’মাস ঠকাবে বিজেপি। ২০ তারিখ রানাঘাটে প্রধানমন্ত্রী আসছেন। সেখানে তিনি বলুক, দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
তবে প্রধানমন্ত্রী আদৌ এ বিষয়গুলি নিজের রাজনৈতিক বক্তব্যে উত্থাপন করবেন কি না, এ নিয়ে বুধবার বঙ্গ বিজেপির এক রাজ্য কমিটির সদস্য বলেন, মতুয়া ভোট আমাদের কোর ভোট ব্যাঙ্ক। তৃণমূল নানাভাবে ওই অংশের মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। নাগিরকত্ব, এসআইআর সহ একাধিক জ্বলন্ত ইস্যুতে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। তাই আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী নিজের মুখে সেই ধোঁয়াশা কাটিয়ে দিন। তাঁদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার দুইই অটুট থাকবে—মতুয়ারা আশ্বস্ত হোক।