Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

টার্গেট পূরণ নিয়ে কোনো হিসাব নেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের কাছে

দলের প্রত্যেক বিধায়ককে প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি বুথে জনসংযোগ করতে হবে। দিল্লি থেকে ইতিমধ্যে এহেন নির্দেশ এসেছে বঙ্গ বিজেপির কাছে। কিন্তু আদতে তারা দিনে কতগুলি বুথের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে?

টার্গেট পূরণ নিয়ে কোনো হিসাব নেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের কাছে
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দলের প্রত্যেক বিধায়ককে প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি বুথে জনসংযোগ করতে হবে। দিল্লি থেকে ইতিমধ্যে এহেন নির্দেশ এসেছে বঙ্গ বিজেপির কাছে। কিন্তু আদতে তারা দিনে কতগুলি বুথের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে? তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এসংক্রান্ত ব্যাপারে সঠিক কোনো হিসাবই নেই বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডের কাছে। ফলে যথাযথ রিপোর্ট পাঠানো যাচ্ছে না দিল্লিতেও। এপরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্য বিজেপির ভূমিকায় প্রবল ক্ষুব্ধ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, শীঘ্রই এনিয়ে দিল্লিতে তলব করা হতে পারে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে।

Advertisement

২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপির স্লোগান ছিল ‘আব কি বার, দো’শো পার’। কিন্তু রাজ্যের ২০০টি বিধানসভা আসনে জয় তো দূর অস্ত, তিন অঙ্কেও পৌঁছতে পারেনি বিজেপি। কার্যত সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবারে আর আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা সংক্রান্ত ঘোষণা করছে না গেরুয়া শিবির। তবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য নেতৃত্বের স্লোগান, ‘ছাব্বিশের নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন’। অর্থাৎ, সাফল্য না মিললেও বিশেষ হাস্যস্পদ হওয়ার ভয় নেই। কিন্তু এই টার্গেট পূরণ করতে হলেও যে বঙ্গে দলের বুথ সংগঠনকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে, তা বিলক্ষণ জানেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। সেইমতো নির্বাচনি প্রস্তুতি সংক্রান্ত যত নির্দেশ রাজ্য বিজেপিকে দেওয়া হচ্ছে, তার সিংহভাগ জুড়েই থাকছে বুথ সংগঠন মজবুত করার কথা।
যদিও ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগেও রাজ্য বিজেপি এমন দাবি করতে পারছে না যে, বাংলায় তাদের ১০০ শতাংশ বুথ সংগঠন তৈরি। বরং রাজ্যের সংখ্যালঘু প্রভাবিত এলাকাগুলিতে দলের বুথ সংগঠন যে রীতিমতো খারাপ, তা জনান্তিকে মেনেও নিচ্ছেন দলীয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশ। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির নির্দেশ ছিল, প্রত্যেক বিধায়ককে প্রতিদিন রাজ্যের অন্তত পাঁচটি করে বুথে গিয়ে জনসংযোগ করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পগুলির সাফল্য তুলে ধরতে হবে। একাধিক কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প রাজ্যে চালু না হওয়ায় আদতে যে বাংলার মানুষই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাও বিশ্বাসযোগ্যভাবে ভোটারদের সামনে উপস্থাপিত করতে হবে। কিন্তু সেই ‘হোম টাস্ক’ও করতে পারছে না বাংলার গেরুয়া শিবির। ফলে বেজায় চটেছেন দিল্লির নেতারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ