নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গ জয়ে করতে চেষ্টার খামতি রাখছে না কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বাংলার প্রত্যন্ত এলাকায় গেরুয়া বাহিনীকে সরসারি জনসংযোগে নামাতে চাইছে দিল্লি। সেই লক্ষ্যে দু’চাকার প্রায় সাড়ে তিনশো মোটর সাইকেল এসে পৌঁছোল পশ্চিমবঙ্গে। বিধানসভা ভিত্তিক পার্টির তরফে দায়িত্বপ্রাপ্তদের এই মোটর সাইকেল বিলি করা হবে। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য সমসংখ্যক বাইক দেওয়া হবে। বাকি দু’চাকার এই যান দেওয়া হবে জেলাওয়ারি বুথ সংযোগকারী সংঘের কার্যকর্তাদের। মূলত গ্রামীণ বাংলার দুর্গম বুথে বুথে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই বিশেষ ব্যবস্থা। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে একইভাবে উত্তরপ্রদেশ থেকে এই ধরনের বাইক নিয়ে আসা হয়েছিল।
তবে সেগুলি রাস্তায় নামাতে সৃষ্টি হয়েছিল দীর্ঘ জটিলতা। কারণ, রাজ্য সরকারের পরিবহণ দপ্তর সেগুলির পারমিট দিতে বিলম্ব করছিল বলে অভিযোগ। এই বাইক নিয়ে বিজেপিতে আরেক লঙ্কাকাণ্ড বেধেছিল। রাজ্য কমিটির এক অবাঙালি নেতার বেলেঘাটা গোডাউনে সেগুলি পড়েছিল বহুদিন। পরবর্তীকালে সেগুলি বিলি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল গেরুয়া অক্ষে। অবশেষে মাত্র ৩০টি বাইক ফিরেছিল বেলেঘাটার গোডাউনে। এবার বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাইক আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কিছু জেলায় বাইক বণ্টন করা হয়েছে। বাকি বাইক খুব শীঘ্রই বঙ্গ বিজেপিকে হস্তান্তর করা হবে।
বর্তমানে রাজ্য বিজেপির ৪৩টি সাংগঠনিক জেলা। প্রতিটি জেলা সভাপতি একটা করে গাড়ি পান। এই গাড়ি ও তেলের খরচ জোগায় পার্টি। বাইকের ক্ষেত্রে জেলা সভাপতিদের আর্থিক দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়া রাজ্যের সব পদাধিকারীকে গাড়ি, মোর্চা সভাপতিদের জন্য গাড়ির খরচ দেয় রাজ্য পার্টি। বৃহস্পতিবার দলের পুনর্মিলন উৎসবে বঙ্গ বিজেপির এই মুহূর্তের বৈভব নিয়ে রাজ্য সভাপতি কিছু কথা উসকে দিয়েছেন। আগের বিজেপি কেমন ছিল তার উল্লেখ করতে গিয়ে, একটা গাড়িতে ছয়-সাতজন সওয়ার হওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। সেই হতদরিদ্র দল, আজকের শমীক ভট্টাচার্যের বঙ্গ বিজেপির উত্তরণ হয়েছে ‘ফাইভ স্টার’ ক্যাটিগরিতে।