নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জনসংযোগ বাড়াতে আমজনতার মতামত নিতে চাইছে বিজেপি। প্রতিটি জেলায় বসানো হয়েছে ‘পরামর্শ বক্স’। আমজনতা কী চাইছে, তা জেনেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু, সাজেশন বক্স নিয়ে জনতার উৎসাহ নেই। বক্স ভরাতে না পারলে জেলার নেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। সেই কারণে কর্মী সমর্থকদেরই বক্স ভরানোর ফরমান দেওয়া হয়েছে। তারাই বেনামে মতামত জানাবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এরাজ্যের সংগঠন নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আমজনতার সঙ্গে নেতাদের সংযোগ নেই, সেটা তারা ভালই বুঝেছে। তা নিয়ে একাধিক বৈঠকে কেন্দ্রের নেতারা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাতেও পরিস্থিতি তেমন বদল হয়নি। কেন্দ্রীয় ঠিক করে দেওয়া কর্মসূচি অধিকাংশ জেলাতেই সফল হচ্ছে না। ভিনরাজ্যের নেতারা বিভিন্ন জেলায় এসে ঘাঁটি গেড়ে বসেছেন। তাঁরা ক্রমাগত রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠাচ্ছেন। সেইমতো ঘুঁটি সাজাচ্ছে ন কেন্দ্রের নেতারা। ড্রপবক্স ছাড়া, একটি মোবাইল নম্বরও তারা চালু করেছে। সরাসরি জনতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চাইছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু, তাতেও জল মেশানোর প্রস্তুতি নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের এক নেতা বলেন, এর আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সমস্ত রিপোর্ট ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছিল। লোকসভা নির্বাচনের সময় জল মেশানো রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠানো হয়। সেই রিপোর্ট দেখেই এরাজ্যে ভাল ফল করার আশা করেছিল বিজেপি। নির্বাচনে ফল বের হওয়ার পর অন্য ছবি দেখা যায়। সেই কারণে নেতাদের উপর ভরসা না করে জনতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার জন্য তারা বেশ কিছু কর্মসূচি নিয়েছে। তারমধ্যে রয়েছে পরামর্শ বক্স। স্টেশন সহ বিভিন্ন জনবহুল জায়গায় সেগুলি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ড্রপবক্স ভরতি না হলে স্থানীয় নেতাদের গ্রহণ যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই কারণে কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে দলের কর্মীদের বিভিন্ন মতামত জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। বক্স খোলার পর তা দেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব খুশি হবে। ভিন রাজ্যের নেতাদের সামনেই সেই বক্স খোলা হবে। তাঁরাও বহু আবেদন দেখে খুশি হবেন। সেই কারণেই বিভিন্ন জেলা নেতারা এমন কৌশল নিয়েছেন।
বিজেপি নেতা প্রধানচন্দ্র পাল বলেন, কর্মী সমর্থকদের মতামত আরও আগে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার ছিল। সেটা হলে সংগঠনের হাল মজবুত হত। জেলার কয়েকজন নেতার মতামত নিয়েই রাজ্য নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিত। তারফলে বহু সক্রিয় কর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। তাদের গুরুত্বই দেওয়া হয়নি।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেতা শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, বিজেপি কোনোদিনই সাধারণ মানুষের কথা ভাবেনি। সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়িয়েছে। আমজনতার নাভিশ্বাস উঠছে। এখন নাটক করার জন্য ড্রপবক্স বসাচ্ছে। এসবে কোনো লাভ হবে না।