Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেনজির! এবার এজেন্ট বুথের বাইরে, ফের তুঘলকি ফরমান কমিশনের, ভোটার যাচাইও বিএলও’র নিয়ন্ত্রণে?

বেনজির সিদ্ধান্ত কমিশনের! নির্বাচনি ইতিহাসে প্রথমবার বুথের বাইরে বসবেন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা। কমিশন সূত্রে এমন খবরই মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি আকারে এখনও কোনো নির্দেশনামা জারি না হলেও রিটার্নিং অফিসার (আরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারদের (এআরও) কাছে এই ফরমান পৌঁছেছে।

বেনজির! এবার এজেন্ট বুথের বাইরে, ফের তুঘলকি ফরমান কমিশনের, ভোটার যাচাইও বিএলও’র নিয়ন্ত্রণে?
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেনজির সিদ্ধান্ত কমিশনের! নির্বাচনি ইতিহাসে প্রথমবার বুথের বাইরে বসবেন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা। কমিশন সূত্রে এমন খবরই মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি আকারে এখনও কোনো নির্দেশনামা জারি না হলেও রিটার্নিং অফিসার (আরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারদের (এআরও) কাছে এই ফরমান পৌঁছেছে।

Advertisement

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গই পাখির চোখ কমিশনের। ভোট ঘোষণার দিন থেকে একের পর এক আধিকারিক বদলি—এযাবৎ একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। তৃণমূল সরাসরি অভিযোগ করেছে, বিজেপিকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতে বদ্ধপরিকর কমিশন! আর এবার এজেন্টদের বুথের ভিতর বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত এই বিষয়ে সোমবার সরব হয়েছেন। জনসভায় তিনি সাফ বলেছেন, ‘তোতাপাখির কমিশন এখন বলছে, এজেন্টরা বাইরে থাকবে, আর সেন্ট্রাল ফোর্স ভিতরে!’ বিজেপির বি-টিম হিসাবে কমিশন যে কাজ করছে, সেই অভিযোগেই ফের তোপ দেগেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
তবে এই ‘সিদ্ধান্তে’র আড়ালেও বহু প্রশ্ন জিইয়ে রেখেছে কমিশন। রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের বুথে স্থান না দিলেও, তাঁরা ঠিক কোথায় বসে কাজ করবেন? কীভাবে তাঁদের কাজ করতে হবে? পুরোপুরি অন্ধকারে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাধারণত ভোটদানের যে পদ্ধতি রয়েছে, তাতে ভোটার ভোটকেন্দ্রে পৌঁছনোর পর দায়িত্বে থাকা ফার্স্ট পোলিং অফিসার তাঁকে প্রথমে চিহ্নিত করেন। অর্থাৎ তাঁর কাছে থাকা ‘মার্কড কপি অব ইলেক্টোরাল রোল’ (এই তালিকাতেই পোস্টাল ব্যালট ও হোম ভোটিং-এর সমস্ত তথ্যের উল্লেখ থাকে) দেখে তিনি ভোটারের সিরিয়াল নম্বর যাচাই করেন। শনাক্তকরণের পর ভোটরকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সেকেন্ড বা দ্বিতীয় পোলিং অফিসারের কাছে। দ্বিতীয় পোলিং অফিসার নিজের কাছে থাকা ১৭এ ফর্মে সংশ্লিষ্ট সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী ভোটারের ভোটারকে স্বাক্ষর বা তাঁর আঙুলের ছাপ নেন। তারপর ভোটার ভোটদানের ছাড়পত্র পেয়ে থাকেন। আর এই গোটা প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের ঩বিশেষ ভূমিকা থাকে। দীর্ঘদিন প্রিসাইডিং অফিসারের পালন করা এক আধিকারিকের কথায়, ‘ভোটার ভোট দিতে এলে সাধারণত তাঁদের সিরিয়াল নম্বর যাচাই করতে সাহায্য করে থাকেন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরাই। এর ফলে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভোটকর্মীদেরই সাহায্য হয়। এবার সেই সুযোগ না থাকায় বাস্তবে ভোট প্রক্রিয়া কিছুটা শ্লথ হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।’
কিন্তু এবার সেই রাজনৈতিক দলের ভোটাররাই থাকবেন বুথের বাইরে। অর্থাৎ, পোলিং অফিসারদের সঙ্গে তাঁদের সংযোগ স্থাপনের কোনো সুযোগই থাকবে না। তাহলে কি এবার তাঁদের বিএলওদের সঙ্গে বসে কাজ করতে হবে? কমিশনের অন্য একটি নির্দেশে তেমন জল্পনাই দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই নির্দেশ জারি করে জানানো হয়েছে, কমিশনের তরফে এবার বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ বিলির সময় বিএলওদের সঙ্গে থাকতে পারবেন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। তাহলে পরের প্রশ্ন হল, এবার কি ভোটদানের সময় বাধ্যতামূলকভাবে কমিশনের দেওয়া ওই ভোটার স্লিপ সঙ্গে রাখতে হবে ভোটরেকে? ওই স্লিপ দেখেই কি ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি একসঙ্গে যাচাই করবেন বিএলও এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এআরও বলছেন, ‘ভোটারদের সাহায্যের জন্য বুথের বাইরে আলাদা একটি বুথে বসবেন বিএলওরা। আর ওই ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথেই এজেন্টদের বসার ব্যবস্থা হতে পারে। কারণ আগেই জানানো হয়েছে, প্রতিটি বুথের ভোটার তালিকা বর্ণানুক্রমিকভাবে দেওয়া থাকবে বিএলওদের। ফলে হয়তো বিএলওদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করতে হতে পারে রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের।’ যদিও কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘ভোটগ্রহণের গোটা দায়িত্ব থাকে ভোটকর্মীদের উপর। এক্ষেত্রে এজেন্টদের সঙ্গে তাঁদের সমন্বয়ের কোনো প্রয়োজন নেই। ভোটার সঠিক পরিচয়পত্র দিলেই ভোট দানের অধিকার পাবেন।’    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ