নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আলোচনা ছিল বাংলা ভাষা নিয়ে। সেটাই পরিণত হল রাজনৈতিক স্লোগান-যুদ্ধে! তার জেরেই বৃহস্পতিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড রাজ্য বিধানসভায়। নজিরবিহীনভাবে টানা দেড় ঘণ্টা ধরে পরস্পরের বিরুদ্ধে বাগ্যুদ্ধ জারি রাখলেন তৃণমূল ও বিজেপি বিধায়করা। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি পর্যন্ত তৈরি হয়েছিল। দলের এমএলএদের শান্ত করতে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যন্ত নেমে আসতে হল ওয়েলে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রাখার সময়েই বারবার হইহট্টগোল করে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে। শেষপর্যন্ত পরিস্থিতি এমন উত্তপ্ত আকার নেয় যে, পদ্মপার্টির পাঁচ জন এমএলএ’কে সাসপেন্ড করতে বাধ্য হলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরও মার্শাল সহ নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি বিধায়করা। শেষপর্যন্ত অবশ্য সরকার পক্ষের মাতৃভাষা সংক্রান্তকে প্রস্তাবকে সমর্থন না করেই তাঁরা বেরিয়ে যান বিধানসভার অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে। এরপরই বিজেপির গায়ে তৃণমূল পাকাপাকিভাবে সেঁটে দিল ‘বাংলা বিরোধী’ তকমা।
বাংলা ভাষার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা এবং ভিন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তার প্রতিবাদে বিধানসভার অধিবেশনে প্রস্তাব এনেছিল সরকার পক্ষ। সেই প্রস্তাবের উপর আলোচনা ছিল এদিন। শুরুতে বিজেপি বিধায়করা অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখার সময় সদলবলে হাজির হয়ে যান তাঁরা। গণ্ডগোলের সূত্রপাত তখন থেকেই। হঠাৎই বিজেপি বিধায়করা দাবি করেন, ‘আমাদেরও বলতে দিতে হবে।’ সৌজন্য দেখিয়ে বক্তব্য থামান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘আমি পরে বলব। আগে বিজেপি বলুক।’ এরপর স্পিকারের নির্দেশে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল ১৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন। কিন্তু তারপর মমতা যখন বক্তব্য রাখা শুরু করেছেন, ফের শুরু হয় বিজেপির হাঙ্গামা। কাগজ ছিঁড়ে, হইহট্টগোল করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন পদ্ম বিধায়করা। এরপর তৃণমূল সরকারকে যখন ‘চোর’ বলে আক্রমণ শুরু করলেন তাঁরা, তখনই ‘অগ্নিকন্যা’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান তুললেন, ‘গদি চোর, ভোট চোর। বিজেপির সবাই চোর।’ এরপর সময় যত এগিয়েছে, ততই বেড়েছে তৃণমূল-বিজেপি বিধায়কদের বাকবিতণ্ডা।
বিধানসভার রীতিনীতি লঙ্ঘনের জন্য শেষপর্যন্ত বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে সাসপেন্ড করেন স্পিকার। তাঁকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করতে আসেন মার্শাল। তখনই নিজের আসনে শুয়ে পড়েন শঙ্কর। শুরু হয় তুমুল ধ্বস্তাধস্তি। পরে শঙ্করকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায় গেরুয়া শিবির। পরবর্তী সময়ে হট্টগোলের জন্য সাসপেন্ড হয়েছেন বিজেপির অগ্নিমিত্রা পাল, মিহির গোস্বামী, অশোক দিন্দা, বঙ্কিম ঘোষ। তারপরেও বাংলা ভাষার উপর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে গেলেন পদ্ম এলএলএরা। তা দেখে মমতা সাফ বলেন, ‘বিজেপি যে বাঙালি বিরোধী, তা ওরাই প্রমাণ করে দিল। ওরা ভোটে বড় শূন্য পাবে। বিজেপি দেশের লজ্জা। কেন্দ্রে আর নেই দরকার, মোদি-শাহের সরকার!’