Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আগুনে ভস্মীভূত বেলপাহাড়ীর জঙ্গল, আশ্রয় নিতে লোকালয়ে পশুপাখির দল

আগুনে ভস্মীভূত বেলপাহাড়ীর জঙ্গল, আশ্রয় নিতে লোকালয়ে পশুপাখির দল
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বেলপাহাড়ীর সবুজ জঙ্গল ন্যাড়া হয়ে গিয়েছে। গাছপালা, বুনো ঘাস পুড়ে ছাই। পশুপাখিরা আশ্রয় হারিয়ে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে চলে যাচ্ছে। জঙ্গলের হরিণ, ময়ূর, শিয়াল, খরগোশ লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। উদাসীন বনদপ্তর। ঝাড়গ্রামের অন্যতম পর্যটনস্থল বেলপাহাড়ী। নানা ঋতুতে প্রকৃতিররূপ এখানে বদলায়। বেলপাহাড়ীর গাড়রাসিনী, ঢাঙ্গিকুসুম, ঘাগরাজলপ্রপাত, কাঁকড়াঝোর জঙ্গল, খাঁদারানি হ্রদ,চাতন পাহাড় দেখতে ছুটে আসেন। জঙ্গলের প্রধান আকর্ষণ বনের পশুপাখিরা। জঙ্গলে আগুন লাগানোর ফলে সেই পশুপাখিরা আজ বিপন্ন। বাঁশপাহাড়ীর বিস্তীর্ণ পাদদেশে ছড়িয়ে আছে শাল,পিয়ালের ঘন জঙ্গল। আগুন লাগানোর জেরে বিস্তীর্ণ জঙ্গল পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। জঙ্গলে দেখা মিলত হরিণ, ময়ূর,বন বিড়াল,লাল জঙ্গল পাখি, ধনেশ পাখি,বন বিড়াল, পরিযায়ী ব্লু রবিন, খরঘোশ, শিয়ালের। জেলার বন ও বন্য পুশুপাখি সুরক্ষা আন্দোলনের কর্মীদের বক্তব্য, বেলপাহাড়ী এলাকার বেশিরভাগ জঙ্গল পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।আগুন লাগানোর ফলে জঙ্গলের বেশিরভাগ পশুপাখিহয় মরে গিয়েছে, নাহলে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে চলে গিয়েছে। যেসব প্রাণী এখনও বেঁচে আছে, তারা খাবারের সন্ধানে জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামগুলোতে ঢুকে পড়ছে। শনিবার বিকেলে বেলপাহাড়ীর মনিয়ারডি গ্ৰামের এক বাসিন্দার বাড়িতে হরিণ ঢুকে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। বনদপ্তরের কর্মীরা  হরিণটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। মাসখানেক ধরে জঙ্গলের ময়ূর, খরগোশ, বন মুরগি, শেয়াল স্থানীয় গ্ৰামগুলিতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে।বন বিভাগের তরফে কাঁকড়াঝোর, ভুলাভেদা, ও বেলপাহাড়ীর জঙ্গলে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে দু’টি পর্যায়ে ৩২টি হরিণ ছাড়া হয়েছিল। হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধিও হয়েছিল।গভীর জঙ্গলে হরিণগুলোকে চড়ে বেড়াতে দেখা যেত। জঙ্গলের ভিতর হরিণের দলের আর দেখা পাওয়া যাচ্ছেনা। মনিয়ারডি গ্ৰামের বাসিন্দা প্রেমানন্দ মুর্মু বলেন, গতকাল বিকেল বেলায় হঠাৎ একটি  হরিণ ঘরে ঢুকে পড়েছিল। হরিণটির ডান পায়ে গভীর ক্ষত ছিল। বনদপ্তরের কর্মীরা এসে নিয়ে গিয়েছে। পোড়া জঙ্গল থেকে বনে পশুপাখিরা খাবারের সন্ধানে মাঝেমধ্যেই  গ্ৰামের দিকে চলে আসছে। জেলার বন্য পশুপাখি সুরক্ষা আন্দোলনের কর্মী গৌতম পান্ডা বলেন, কিছুদিন আগেই জঙ্গলের রাস্তায় একটি শিয়াল জখম অবস্থায় পড়েছিল।শিয়ালটির শুস্রষা করে জঙ্গলে ছেড়ে দিই। জঙ্গলে বনের পশুপাখিদের মরে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। জঙ্গলের ভিতরে গেলেই দেখা যাবে গাছের ডালে পুড়ে যাওয়া পাখিদের বাসা। বেলপাহাড়ীজঙ্গলে হরিণের দল, ময়ূর দেখা যেত। এখন দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে দেখার কেও নেই।ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের প্রাক্তন আধিকারিক সমীর মজুমদার বলেন, ঝাড়গ্রামের একাধিক জঙ্গলে আগুন লাগানো হচ্ছে। বনের বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খাবার না থাকায় বনের পশুপাখিরা বিপদে পড়ছে। জঙ্গলে আগুন লাগানো না থামানো গেলে জেলার বনভূমি পশুপাখি শূন্য হয়ে যাবে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ