সংবাদদাতা, বহরমপুর: বেলডাঙা পুরসভা কর্তৃপক্ষ ১২ বছর ধরে মা ক্যান্টিনে পাঁচ টাকায় ডিম ভাত খাওয়াচ্ছে। একটি ক্যান্টিনে চাপ বাড়ায় পুর এলাকায় আরও একটি মা ক্যান্টিন খোলা হয়েছে। দু’টি ক্যান্টিনে প্রতিদিন প্রায় পাঁচশো জন খাবার খেতে আসেন। পাঁচ টাকায় খাবারের থালায় থাকে ভাত, ডাল, সব্জি এবং ডিম। প্রতিদিন সব্জির বদল হয়। রমজান মাস শেষ হওয়ার পর ফের দু’টি মা ক্যান্টিনেই ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বেলডাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান অনুরাধা হাজরা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প এই মা ক্যান্টিন। দু’টি ক্যান্টিন চালাতে পুরসভাকে প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা ভর্তুকি দিতে হয়।
দরিদ্র মানুষকে সস্তায় পেট ভরে খাবার দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন শহরে মা ক্যান্টিন চালু করেছিলেন। ২০১৪ সালে তৃণমূল পরিচালিত বেলডাঙা পুরসভা মা ক্যান্টিন শুরু করে। পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সম্পর্ক হলে ক্যান্টিন খোলা হয়। শুরু থেকেই উপভোক্তাদের পাঁচ টাকায় খাবার দেওয়া হচ্ছিল। পরে একই দামে খাবারের মেনুতে প্রতিদিন ডিম দেওয়া শুরু করে পুর কর্তৃপক্ষ।
চালু হওয়ার পর বহু মা ক্যান্টিন ধুঁকছে। বহু ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সম্পর্ক হলের মা ক্যান্টিনে ভিড় বাড়ায় দ্বিতীয় আর একটি ক্যান্টিন খুলে নজির গড়েছে বেলডাঙা পুরসভা কর্তৃপক্ষ। ২০২৩ সালে তিন নম্বর ওয়ার্ডের হার্ডপার্কে আর একটি মা ক্যান্টিন খুলে পরিষেবা চালু করে পুর কর্তৃপক্ষ। যে কেউ ক্যান্টিনে বসে খেতে পারেন। রমজান মাসে মা ক্যান্টিনে খাবারের চাহিদা কমেছিল। রমজান মাস শেষ হতেই ফের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বেলডাঙায় দুটি সাপ্তাহিক হাট চলে। হাটের দিনগুলিতে দু’টি মা ক্যান্টিনে ভিড় আরও বাড়ে। কাপাসডাঙা থেকে বেলডাঙায় সরকারি কাজে এসেছিলেন লিয়াকত আলি। তিনি বলেন, বেলডাঙায় কাজে এলে মা ক্যান্টিনেই খাবার খাই। এক কাপ চায়ের দামে পেট ভরে ডিম ভাত মেলে। এই সুবিধা আর কোথাও পাব না। বিপুল বিশ্বাস বলেন, বেলডাঙায় ফুটপাতে ব্যবসা করি। রোজ দুপুরের খাবার মা ক্যান্টিনে খাই। একই খাবার রোজ দেওয়া হয় না। খাবারের মানও খুব ভালো।