Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেলডাঙার ভুয়ো সিম জামতাড়া গ্যাংয়ের হাতে? তদন্তে পুলিস

বেলডাঙার ভুয়ো সিম জামতাড়া গ্যাংয়ের হাতে? তদন্তে পুলিস
  • ২৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ভুয়ো সিম ও কিপ্যাড মোবাইল চক্রের জাল বিস্তৃত রয়েছে বাইরের রাজ্যেও। হাজার হাজার সিম বাংলার বাইরে ভিনরাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে বলেই অনুমান করছে পুলিস। জামতাড়া গ্যাংয়ের কাছেও কি এই বেনামি সিম পৌঁছে গিয়েছে? এই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে পুলিসকে। বেআইনিভাবে এই মোবাইলের সিমকার্ড বিক্রির চক্রে জড়িত দুই সদস্যকে বেলডাঙার মহ্যমপুর থেকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার রাতে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে বেলডাঙা থানার পুলিস। তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিস। জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই গ্যাংয়ের আরও কয়েকজন সদস্যকে খুঁজছে পুলিস। মহ্যমপুরের দুই ভাই মোমিন মল্লিক ও হোসেন মল্লিককে গ্রেপ্তার করতেই বাকিরা গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানতে পেরেছেন আধিকারিকরা। 

Advertisement

বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, এই ভুয়ো সিমের গ্যাংয়ের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত আছে। তারা গা ঢাকা দিয়েছে। মূল মাথাদের খোঁজ চলছে। কোথায় কোথায় এই অবৈধ সিম ছড়িয়ে পড়ত, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। এর আগেও বেলডাঙা থেকে এক যুবককে প্রায় আড়াই হাজার ভুয়ো সিম সহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার সঙ্গে এই গ্যাংয়ের লিঙ্ক আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মাসখানেক আগে বিধাননগর পুলিস কমিশনারেটের আধিকারিকরা অভিযান চালিয়ে বেলডাঙার আলতাব শেখ নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকেও আড়াই হাজার বিভিন্ন টেলিকম সংস্থার সিম উদ্ধার হয়েছিল। মঙ্গলবারও দুই ভাইয়ের হেফাজত থেকে বিভিন্ন সিম কার্ড সংস্থার মোট ১১৮৩টি সিম কার্ড ও ১১টি কিপ্যাড মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, এই অবৈধ সিম কার্ডগুলি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হতো। ধৃত দুই ভাই বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে পুরনো মোবাইল ফোন কম দামে কিনে আনত। ফোন পিছু তারা ৩০-৪০ টাকা খরচ করত। সেখানকার ভাঙরির দোকানে এই সমস্ত প্রচুর ফোন পাওয়া যায়। যে কিপ্যাড ফোনে সিম লাগানো থাকত, সেগুলিকে তারা টার্গেট করত। এসব ফোনে থাকা পরিত্যক্ত বা ‘ডি-অ্যাক্টিভেট’ না-করা সিম কার্ডগুলি পুনরায় তারা চালু করত। মোটা টাকার বিনিময়ে পরে তা বিক্রি করা হতো। মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় এই সিম যেমন ছড়িয়ে পড়েছে, তেমনই রাজ্যের বাইরেও ছড়িয়ে গিয়েছে বলে অনুমান পুলিসের। অভিযুক্তরা কোথায় কত পরিমাণ সিম বিক্রি করেছে, সে ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিস। কারা কারা সেই সিম কিনেছে তাও খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলায় এই বেনামি সিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। 
সাইবার ক্রাইম বা অন্যান্য অপরাধ সংগঠিত করতে এইসব সিমের মাধ্যমেই কথা বলে থাকে দুষ্কৃতীরা। বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গিয়েছে, জামতাড়া গ্যাংয়ের সদস্যরা এই বেনামি সিম কিনে নেয়। যেহেতু সিম কার্ডগুলি অন্যের নামে চালু থাকে ফলে এই ধরনের সাইবার প্রতারণার মামলায় সিমের সূত্র ধরে মূল অপরাধীকে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ধৃত দুই ভাই অবৈধ সিমকার্ড কাদের সরবরাহ করত, সেটা খুঁজে বের করাই চ্যালেঞ্জ তদন্তকারীদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ