নয়াদিল্লি: পাকিস্তানে ছ’হাজার কোটি ডলারের চীন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্পে টাকা ঢালতে আর রাজি হল না বেজিং। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগ দিতে চীনে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সেখানে কৃষি, ইলেকট্রিক গাড়ি, স্বাস্থ্য, ইস্পাত ইত্যাদি ক্ষেত্রে দু’পক্ষের মধ্যে প্রায় সাড়ে আটশো কোটি ডলারের মউ স্বাক্ষর হলেও, সিপিইসির দ্বিতীয় দফার কাজে নতুন করে বড় চীনা বিনিয়োগের আশ্বাসটুকুও নিয়ে আসতে পারেননি শাহবাজ। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, করাচি থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ কিমি রেলপথের উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগ করার কথা ছিল। সেই প্রকল্পে আর অর্থ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে বেজিং। শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি সামলাতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের (এডিবি) দ্বারস্থ হয়েছে ইসলামাবাদ। করাচি থেকে রোহরি পর্যন্ত রেলপথ সংস্কারের জন্য ২০০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে তারা। কিন্তু হঠাত্ চীনের পাকিস্তানের হাত ছেড়ে দেওয়া নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে ভূ-রাজনীতির হঠাত্ বাঁক বদলের সাক্ষী থেকেছে বিশ্ব। আমেরিকা ‘শুল্ক-যুদ্ধ’ শুরু করতেই কাছাকাছি এসেছে ভারত, চীন ও রাশিয়া। চীনের তিয়ানজিন শহরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্তরঙ্গ আলোচনার ছবি এখন ভাইরাল। তার ঠিক পরেই চীনের এই সিদ্ধান্ত। আমেরিকার শুল্ক চাপানো ঠেকাতে ভারত ও চীন যখন কাছাকাছি আসছে, তখন আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।
প্রশ্ন উঠছে, অতিরিক্ত আমেরিকা প্রীতি দেখানোর ফলেই কি ইসলামাবাদের পাশ থেকে নীরবে সরে
যাচ্ছে বেজিং?
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে পাকিস্তানের গদর বন্দর পর্যন্ত অঞ্চলের পরিকাঠামো আমূল ঢেলে সাজতে চীন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডর প্রকল্প হাতে নেয় দুই দেশ। যদিও এতে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণই বেশি। চীন যে বিশ্বজুড়ে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ শুরু করেছে, এই সিপিইসি তারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রকল্পে জিনজিয়াং থেকে গদর বন্দর পর্যন্ত রাস্তা, রেলপথ, পাইপলাইন, বিদ্যুত্ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। গোটা প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলপথ উন্নয়নে চীনের টাকা বিনিয়োগ না করার সিদ্ধান্ত হঠাত্ নয়। যত দিন যাচ্ছে, ঋণে ডুবে যাচ্ছে পাকিস্তান। ঋণ মেটাতে হাঁসফাঁস দশা তাদের। তার মধ্যে পাকিস্তানের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চীনের টাকায় চলা বর্তমান প্রকল্পগুলির ভবিষ্যত্ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এই অবস্থায় ফের কোনও প্রকল্প নিয়ে আগ্রহী নয় বেজিং। সিপিইসি এখন বন্ধ না হলেও, এর ভবিষ্যত্ যথেষ্ট অন্ধকারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চীনে গিয়ে শাহবাজ পাকিস্তানের দুরবস্থা কার্যত মেনে নিয়েছেন। একই সঙ্গে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তার আশ্বাস ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর কথাও বলেছেন। তাতেও সরকারিভাবে চীনকে দিয়ে সিপিইসি ২.০ শুরুর ঘোষণা
করাতে পারেননি তিনি। যদিও পাকিস্তানের দাবি, সিপিইসি নিয়ে চীনের সঙ্গে তারা ভবিষ্যতেও
একসঙ্গে কাজ করবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চীনের প্রিমিয়ার লি কিয়াংয়ের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে শাহবাজ জানিয়েছেন, সিপিইসির দ্বিতীয় দফার কাজ নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।