Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডিম-ভাত থেকে শুরু করে চিকেনের ঝোল, মাটন বিরিয়ানির সুবাস, নেত্রীর ভাষণ শোনার আগে জমিয়ে পেটপুজো

এ বছর একুশে জুলাই দেখা গেল, বিরিয়ানিরই দাপট। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দিয়েছে ভাত-মুরগির মাংস। পার্ক স্ট্রিট মেট্রোর ভিতর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে বিরিয়ানির সুবাস।

ডিম-ভাত থেকে শুরু করে চিকেনের ঝোল, মাটন বিরিয়ানির সুবাস, নেত্রীর ভাষণ শোনার আগে জমিয়ে পেটপুজো
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোহম কর  কলকাতা

Advertisement

এ বছর একুশে জুলাই দেখা গেল, বিরিয়ানিরই দাপট। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দিয়েছে ভাত-মুরগির মাংস। পার্ক স্ট্রিট মেট্রোর ভিতর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে বিরিয়ানির সুবাস। সেখানে খোলা আকাশের নীচে হাতে বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। জেলা থেকে আসা মানুষ দুপুরে পেট পুড়ে খেলেন মুরগি-আলু দেওয়া সাদা-হলুদ ভাতের বিরিয়ানি। শুধু পার্ক স্ট্রিট নয়, শিয়ালদহ থেকে হাওড়া, বালি ব্রিজ থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতু সর্বত্র বিরিয়ানির জাফরানি সুবাস ম ম করল। তবে এর সঙ্গে দস্তুরমতো পাল্লা দিল ভাত-মাংস।
শিয়ালদহে এজেসি বোস রোডে সকাল থেকেই গরম ভাতের হাঁড়ি থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ছোট স্টোভে বড় হাঁড়িতে বসেছে মুরগি। ঝোল হচ্ছে পাতলা করে। ঠিক তখন মৌলালি মোড়ে কড়ায় গরম হচ্ছে তেল। মহিলারা ফুটপাতে বসে আলু-পিঁয়াজ কাটছেন। অন্যদিকে শহরের আর এক প্রান্ত সেনা এলাকা ফোর্ট উইলিয়াম চত্বরের দখল নিয়েছে বাসমতি চালের সুবাস। আবার বেলার দিকে রাসেল স্ট্রিটে ত্রিপল টাঙিয়ে শুরু হয়েছে খিচুড়ি খাওয়া। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা শোনার আগে শহরজুড়ে চলছে পেটপুজো। বিরিয়ানি-মাংস-ভাত এবং কোথাও ডাল-ভাত-তরকারি, কোথাও খিচুড়ি-ডিম ভাজা। 
একুশের সঙ্গে ডিম-ভাত কেমনভাবে যেন জুড়ে গিয়েছে। এলিটরা নাক কুঁচকোলে খেটে খাওয়া জনসভার ভিড় তখন ঘাম মুছে বলে, ‘ওঁরা জ্ঞানী তো। আমাদের পেটের খিদে নিয়ে তাই হাসেন।’ এদিন কলকাতার প্রায় দখল নিয়ে নিয়েছিল বাংলার এই খেটে খাওয়া মানুষরা। ধর্মতলা, শিয়ালদহ, পার্ক স্ট্রিট, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, এজেসি বোস রোডের মতো রাজপথে জেলা থেকে আসা বাসের মেলা। নদীয়া, হুগলি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, পুরুলিয়া, আসানসোল, মেদিনীপুরের মানুষরা রান্না করলেন। রাস্তাতেই বসে খেলেন। তারপর প্রিয় নেত্রীর বক্তব্য শুনতে ছুটলেন ধর্মতলায়। বর্ধমানের পানাগড় থেকে এসেছিলেন শ্যামলী সরকার। বললেন, ‘ভাত-ডাল-পটলের তরকারি আর মুরগির ঝোল রান্না হচ্ছে।’ পুরুলিয়ার কৃষক শিবু হাঁসদা বলেন, ‘আমরা রান্নাবান্নার ঝামেলার যাইনি। বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে এসেছি।’ 
সভা শেষ। ততক্ষণে পথে নেমেছে কর্পোরেশন। রাস্তা পরিষ্কার শুরু হয়েছে। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষরা যাওয়ার আগে জানিয়ে গেলেন, ‘২০২৬-এর ভোটে জান কবুল। মমতা আরও বেশি আসনে জিতবেন। এখনই লিখে নিন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ