Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কম্বোডিয়া পালানোর আগে বিমানবন্দরে ধৃত মানব পাচার চক্রের অন্যতম পান্ডা

কম্বোডিয়ায় কাজের টোপ দিয়ে নিয়ে গিয়ে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। চক্রের অন্যতম পান্ডা মহম্মদ ইমরান কম্বোডিয়ায় পালানোর আগেই মঙ্গলবার কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার।

কম্বোডিয়া পালানোর আগে বিমানবন্দরে ধৃত মানব পাচার চক্রের অন্যতম পান্ডা
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কম্বোডিয়ায় কাজের টোপ দিয়ে নিয়ে গিয়ে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। চক্রের অন্যতম পান্ডা মহম্মদ ইমরান কম্বোডিয়ায় পালানোর আগেই মঙ্গলবার কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। আলিপুর এলাকার এক তরুণীকে হোটেলে কাজ দেওয়ার নাম করে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়েছিল সে। সেখানে যাওয়ার পর তাঁকে বিদ্যুতের শক দেওয়া হয়। আটকে রেখে চলে মারধর ও শ্লীলতাহানি। তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের যোগ পাওয়া গিয়েছে বলে খবর।

Advertisement

আলিপুর এলাকার ওই তরুণী একটি ইনস্টিটিউট থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্ট পাশ করার পর কাজ খুঁজছিলেন। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে দেখেন কম্বোডিয়ার বিভিন্ন হোটেলে লোক নিয়োগ হবে। সেখানে থাকা ফোন নম্বর দেখে কল করলে বলা হয়, ভারত থেকে কম্বোডিয়ার বিভিন্ন হোটেলে লোক পাঠানোর বরাত পেয়েছে তারা। ওই তরুণী রাজি হলে অনলাইনে ইন্টারভিউ নেয় অভিযুক্তরা। ভিসা তৈরি সহ বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপর তাঁকে সেখানকার একটি পাঁচতারা হোটেলে চাকরির ভুয়ো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। তাঁকে বলা হয়, বাড়ি থেকে টাকা এলে তবেই হোটেলে কাজ মিলবে। তাদের দাবি মতো তরুণীর পরিবার টাকা পাঠায় অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্টে। তারপর তাঁকে একটি ছোট হোটেলে কাজ দেওয়া হয়।

তরুণী অভিযোগে জানিয়েছেন, সেখানে তাঁকে ক্রীতদাস হিসাবে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রতিদিন বিদ্যুতের শক দেওয়া হতো। অভিযুক্তদের কথামতো কাজ না করলে চলত মারধর ও যৌন নির্যাতন। তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি কম্বোডিয়ায় থাকা ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারাই তাঁকে উদ্ধার করে কলকাতায় ফেরার ব্যবস্থা করে। ১৬ জানুয়ারি তিনি আলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ প্রতারণা, জালিয়াতি, মানবপাচার সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে। পরে তদন্তভার নেয় লালবাজার।

ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তাঁর মতো অনেককেই হোটেল বা কল সেন্টারে কাজের টোপ দিয়ে কম্বোডিয়ায় নিয়ে গিয়েছে মানব পাচারে জড়িত ইমরান সহ অন্যরা। সেখানে তাঁদের আটকে রেখে বিভিন্ন ছোটো হোটেল বা অবৈধ কলসেন্টারে কাজ করানো হচ্ছে। টাকাও দেওয়া হচ্ছে না। কেউ কাজ করতে অস্বীকার করলে দেওয়া হয় বিদ্যুতের শক। মহিলাদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটছে। এই চক্রে কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন রয়েছে। অভিযুক্ত ইমরান মানব পাচারে জড়িত। তার নামে লুকআউট নোটিস জারি হয়। মঙ্গলবার অভিযুক্ত কলকাতা বিমানবন্দর থেকে কম্বোডিয়ায় পালানোর সময় তাকে আটক করে অভিবাসন দপ্তর। লালবাজারকে বিষয়টি জানানো হলে তারা তাকে গ্রেপ্তার করে।

ধৃত ইমরান তদন্তকারীদের জানিয়েছে, ৪০-৫০ জনকে এভাবে কম্বোডিয়া নিয়ে গিয়ে তাদের আটকে রেখে ক্রীতদাসের মতো কাজ করানো হচ্ছে। অনেকদিন ধরেই তারা এই অবৈধ কারবার চালাচ্ছে। সে কলকাতা থেকে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে গিয়ে কম্বোডিয়ায় থাকা চক্রের লোকজনের হাতে তুলে দিত। তাকে জেরা করে চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজ শুরু করেছে লালবাজার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ