


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ায় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ সহ জেলার অন্যান্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শয্যা সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানালেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। হাসপাতালে স্থায়ী কর্মী নিয়োগকে রাজ্য সরকার অগ্রাধিকার দেবে বলেও মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে তিনি বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের আধিকারিকদের সঙ্গে মন্ত্রী একপ্রস্থ বৈঠকও সারেন। তাঁর সঙ্গে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি-র চিকিৎসক নেতা সুভাষ সরকার সহ অন্যান্যরা ছিলেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষুদিরামবাবু বলেন, হাসপাতালে সিন্ডিকেট রাজ বরদাস্ত করা হবে না। কেউ সিন্ডিকেট বা দালালরাজ চালালে সোজা জেলে ভরে দেওয়া হবে। হাসপাতালের রান্না সহ অন্যান্য কাজে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কর্তৃত্ব চালানো সংস্থার বিরুদ্ধে আমরা ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছি। কেউ বেআইনি কাজ করলে শাস্তি পেতে হবে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া মেডিকেলে রোগীর চাপ অনেক বেশি। তুলনায় বেডের সংখ্যা বেশ কম। ফলে রোগীদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মেঝেতেই রাখা হয়। বর্ষা ও শীতে রোগীদের কষ্ট হয়। খাতড়া মহকুমা হাসপাতাল সহ জেলার অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেও একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মেডিকেল সহ অন্যান্য হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছিল। এবার মন্ত্রী আশ্বাস দেওয়ায় কাজ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। জেলার হাসপাতালগুলিতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স সহ অন্যান্য বহু পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। সেখানেও লোক নিয়োগ খুবই জরুরি। মন্ত্রী এক্ষেত্রেও নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন।
এদিকে, বাঁকুড়া মেডিকেল চত্বরের জঞ্জাল সাফাই, পানীয় জল সহ অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। সেগুলিও একে একে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। মেডিকেলে রোগীর আত্মীয়দের জন্য বিশ্রামগৃহে কর্তৃপক্ষের ঠিক করে দেওয়া টাকার চেয়ে বেশি আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। ওই বিষয়টি সহ যাবতীয় সিন্ডিকেটরাজ শেষ করা হবে বলে ক্ষুদিরামবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁকুড়া পুরসভার এক কাউন্সিলারের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁর নির্দেশ ছাড়া মেডিকেল চত্বরে গাছের পাতা পর্যন্ত নড়ত না। হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে টেন্ডার ডাকার সময়ে তাঁর দাপট লক্ষ্য করা যেত। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর ডাকাবুকো স্বভাবের ওই ব্যক্তি আত্মগোপন করে রয়েছেন। তাঁদের মতো লোকজনকে ইঙ্গিত করেই মন্ত্রী সিন্ডিকেটবাজদের জেলে ভরার হুমকি দিয়েছেন বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।