“বেদরূপ কল্পতরু হ’তে উদ্ভূত, অপূর্ব্ব অমৃতপূর্ণ, চৈতন্যরূপ, আনন্দফল একমাত্র হরিনামই।।”
“বেদরূপ কল্পতরু হ’তে উদ্ভূত, অপূর্ব্ব অমৃতপূর্ণ, চৈতন্যরূপ, আনন্দফল একমাত্র হরিনামই।।”
সমস্ত বেদের বীজ অ-উ-ম ত্রিবৃৎ প্রণব, তারও বীজভূত কেবল একমাত্র ‘হরিনাম’-কীর্ত্তন করতে করতে নাদের আবির্ভাব হয়, সেই নাদ হ’তে ওঙ্কার উদ্ভূত হন। এই জন্য হরিনাম প্রণবেরও বীজস্বরূপ।।”
“মাত্র বহির্মুখতার জন্য আমার দিকে না চেয়ে জীব হাহাকার করছে।
উপাসনার দ্বিতীয় কিছু নাই, একমাত্র ওঙ্কারই আছে।
এ ওঙ্কারকে নানা রূপে লোকসকল উপাসনা ক’রে আমাকে লাভ করে।
এ যুগের সহজ সরল সুগম উপাসনা অবিরাম নাম করা।”
রাম— ওঙ্কার কোথা আছেন?
শিব— তিনি আকাশের মত বিশ্বব্যাপ্ত হয়ে আছেন। সকলের অন্তরে বাইরে তিনিই বিরাজমান। তাঁর ইচ্ছা হয়েছিল বহু হব জন্মাব, তিনিই সব সেজে খেলা করছেন।
রাম— তুমি আমায় একটু বুঝিয়ে বল।
শিব— পরম ব্যোম চিদাকাশে সৃষ্টির আদিতে স্পন্দন ওঠে “বহুস্যাং প্রজায়েয়মিতি” বহু হব জন্মাব এই প্রথম স্পন্দনই শব্দব্রহ্ম ওঙ্কার-মহাকাশে বিশ্বহীন বিশ্বছেয়ে ওঁ-ওঁ-ওঁ ধ্বনিত হতে থাকে।
আকাশ বায়ুতে ওঙ্কার নাদ লীলা করতে থাকেন, ওঙ্কার নাদই প্রকৃতি, মায়া, তমঃ, তপ, জ্ঞান, প্রধান, শক্তি, অজ, পরমাণু, সবই ওঙ্কারনাদের নাম।
সেই শব্দময় পরমাণু থেকে বাতাস, বাতাস স্থূল হয়ে আগুন, আগুন স্থূল হয়ে জল, জল স্থূল হয়ে পৃথিবী।
এই ভূতসকল ওঙ্কারনাদ রূপ পরমাণু থেকে সঞ্জাত হয়েছে।
তা থেকে আধিদৈবিক— চন্দ্র-সূর্য্য গ্রহ-নক্ষত্র দেবতাগণ, আধিভৌতিক— মানুষ, পশু-পক্ষী, কীট-পতঙ্গ, বৃক্ষ-লতা, সাগর-পর্ব্বত, নদ-নদী, সোনা-রূপা-তামা-লোহা আদি ধাতুসকল এক কথায় পার্থিব যা কিছু সব এবং—
আধ্যাত্মিক শ্রোত্র-ত্বক্-চক্ষু-জিহ্বা-ঘ্রাণ-বাক্-পাণি-পাদ-পায়ু-উপস্থ প্রভৃতি সমস্ত ইন্দ্রিয়।
রাম— আমার এ দেহ কোথা থেকে হল?
শিব— ওঙ্কার নাদ জমে— যেমন জল জমে বরফ হয় সেরূপ ওঙ্কারনাদ জমে দেহ হয়েছে।
ওঙ্কারের ব্যাখ্যা হল সপ্রণব ব্যাহৃতি— গায়ত্রী শিরের সহিত গায়ত্রী এবং গায়ত্রীর সংক্ষেপ ব্যাখ্যা হল— সন্ধ্যা, বিস্তৃত ব্যাখ্যা— চতুর্ব্বেদ, ষড়দর্শন, সমস্ত শাস্ত্র। রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত সবই গায়ত্রীর বিস্তৃত ব্যাখ্যা।
“ওঁ খং ব্রহ্ম” — ওম্ই আকাশ ব্রহ্ম। পরমাত্মস্বরূপ আকাশ চিরন্তন। “আকাশশরীরং ব্রহ্ম”— যিনি আকাশ নামে প্রসিদ্ধ, তিনি নামরূপের অভিব্যক্তির কারণ। ঐ নামরূপ যাঁর মধ্যে তিনিই ব্রহ্ম, তিনিই আত্মা।
রাম— রামায়ণ, ভাগবত রাম কৃষ্ণের লীলা কথা।
শিব— ওঙ্কারই শ্রীরাম-শ্রীকৃষ্ণ।
ত্রিদণ্ডী স্বামী মাধব রামানুজ সংকলিত ‘শ্রীশ্রীওঙ্কারসহস্রবাণী’ থেকে