Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গীতাপাঠের ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রি করায় মারধর, এফআইআর দায়ের

গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে কেন আমিষ খাবার বিক্রি করা হচ্ছে? এই নিয়ে অনুষ্ঠান শেষ ধুন্দুমার কাণ্ড ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। কপালে গেরুয়া তিলক কাটা, মাথায় একই রঙের ফেট্টি বাঁধা একঝাঁক অংশগ্রহণকারীর হাতে বেধড়ক প্রহৃত হলেন দুই প্যাটিস বিক্রেতা।

গীতাপাঠের ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রি  করায় মারধর, এফআইআর দায়ের
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে কেন আমিষ খাবার বিক্রি করা হচ্ছে? এই নিয়ে অনুষ্ঠান শেষ ধুন্দুমার কাণ্ড ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। কপালে গেরুয়া তিলক কাটা, মাথায় একই রঙের ফেট্টি বাঁধা একঝাঁক অংশগ্রহণকারীর হাতে বেধড়ক প্রহৃত হলেন দুই প্যাটিস বিক্রেতা। শুধু মারধরেই থামেনি গীতাপাঠে অংশগ্রহণকারী ভক্তরা। আক্রোশের বশে তাঁরা উল্টে দেন প্যাটিস বিক্রেতাদের ডালা। নষ্ট করে দেওয়া হয় সব খাবার। গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ওই দুই ব্যক্তি ময়দান চত্বরে নিরামিষ ও আমিষ প্যাটিস বিক্রি করে পেটের ভাত জোগাড় করছেন। 

Advertisement

কেন এই নিগ্রহ? বিক্রেতাদের ‘অপরাধ’, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস অর্থাৎ আমিষ খাবার বিক্রি। সেই মারধরের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়াতে রীতিমত ভাইরাল (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান)। এই মারধরের প্রতিবাদে দুই প্যাটিস বিক্রেতার হয়ে ময়দান থানায় অভিযোগ জানিয়েছে সিপিএম। লালবাজার জানিয়েছে, অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে দু’টি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়ার ভিডিয়ো দেখেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। 
রবিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সনাতন সংস্কৃতি পরিষদ। আচমকাই ময়দানের একপ্রান্তে জটলা শুরু হয়। অংশগ্রহণকারীদের একাংশ দু’জন চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে ঘিরে ধরে মারধর করতে শুরু করেন। নিগৃহীত দুই বিক্রেতার নাম শেখ রিয়াজুল (৫০) ও মহম্মদ সালাউদ্দিন (৬০)। রিয়াজুলের বক্তব্য, মারধরের পাশাপাশি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে অভিযুক্তরা। তাঁর ডালায় প্রায় ৩ হাজার টাকার খাবার ছিল। সবটাই নষ্ট করে দেওয়া হয়। সালাউদ্দিনের অভিযোগ, ধর্মীয় ভাবাবেগ নিয়েও আঘাত করে একদল অভিযুক্ত। আহত অবস্থায় তাঁদের দু’জনকেই উদ্ধার করে পুলিশ এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখেছেন আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ময়দান থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিশ খুঁজে বের করুক, কে এই কাজ করেছে। হাইকোর্টের চিফ জাস্টিসকেও জানানো হয়েছে।’
এপ্রসঙ্গে বিজেপিকে দুষছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূল মুখপাত্র তথা কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলার অরূপ চক্রবর্তী বলেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাসের উপর আক্রমণ শানাচ্ছে বিজেপি। মাছ, মাংস খাওয়া যাবে না, এটাই কি ওদের নিদান? সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের রুটিরুজিতে আঘাত করে ওরা বুঝিয়ে দিল কতটা বাংলা বিরোধী। গেরুয়া শিবিরের তরফে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘বিজেপির কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ