নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রবিবার সন্ধ্যায় সিউড়ির আমগাছিতে আখের খেতে আদিবাসী মহিলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁকে মারধরের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করল সিউড়ি থানার পুলিশ। তবে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মাঠে নেমেছিল বিজেপি। মহিলাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে হওয়া গরম করতে থাকেন বিজেপি নেতারা। পুলিশকে হেনস্তার শিকার হতে হয়। যদিও পুলিশ সূত্রের খবর, ধর্ষণ নয়, ত্রিকোণ প্রেমের কারণেই ওই মহিলাকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনায় মহিলার ‘প্রেমিক’কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশকে হেনস্তার কারণে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের হয়েছে।
ওইদিন সন্ধ্যায় আদিবাসী মহিলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস সহ অন্যান্য নেতারা। আদিবাসী নেতা রবিন সরেনও হাসপাতালে আসেন। যদিও, প্রাথমিক চিকিত্সার পর মহিলাকে বর্ধমান মেডিকেলে পাঠিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিজেপি। বিজেপি নেতা দীপক দাস অভিযোগ করেন, ওই মহিলাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। তাই প্রমাণ লোপাট করতে কোনওরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই মহিলাকে বর্ধমানে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। এনিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হতে থাকে। হাসপাতাল চত্বরেই ডিএসপি(শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণ) কুণাল মুখোপাধ্যাযয়ের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বিজেপি নেতারা। পুলিশকে হেনস্তার অভিযোগও ওঠে। হেনস্তার ঘটনায় বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস সহ মোট তিনজন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও পাল্টা দীপক বলেন, আমরাও পাল্টা মামলা করব।
আদিবাসী মহিলার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন আগে ওই মহিলার স্বামী মারা গিয়েছেন।
মহিলার সঙ্গে রাজনগরের বেলবুনির বাসিন্দা মনু সোরেন ওরফে শুকুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যদিও, মহিলার আরও এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের কথা সম্প্রতি জানতে পারে শুকু। তা নিয়েই মহিলার সঙ্গে বচসা শুরু হয়। রবিবার বিকেলে আমগাছিতে মহিলার সঙ্গে দেখা করতে আসে শুকু ও তার এক সাগরেদ বাবলু টুডু। গ্রামের অদূরে একটি আখের খেতে ওই মহিলাকে দুই যুবক মিলে বেধড়ক মারধর করে। মুখ থেঁতলে দেয়। মহিলার চিত্কার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ততক্ষণে চম্পট দেয় ওই দুই যুবক। স্থানীয় বাসিন্দারা মহিলাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে থেকে বর্ধমান মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই ভর্তি রয়েছেন ওই মহিলা।
রবিবার রাতেই সিউড়ি থানার আইসি সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি টিম গঠন অপরাধীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। রাতভর তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে ধৃতদের সাতদিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি তিন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজেপির লিগ্যাল সেলের আহ্বায়ক কৌশিক আচার্য বলেন, আমাদের তিনজন নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। আইন অনুযায়ী যা করার করা হবে।