Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিদ্যুতের খরচ বাঁচাতে কেশপুরের শীর্ষা পঞ্চায়েত অফিসে বসছে সৌর প্যানেল

বিদ্যুতের খরচ বাঁচাতে কেশপুরের শীর্ষা পঞ্চায়েত অফিসে বসছে সৌর প্যানেল
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: কোনও পঞ্চায়েত অফিসে বিদ্যুৎ বিল তিরিশ হাজার, আবার কোনও পঞ্চায়েতে পঞ্চাশ হাজার। গরম পড়লে  বিদ্যুৎ বিল আরও বাড়ত। বিদ্যুতের খরচ কমাতে কেশপুর ব্লকের ২ নম্বর শীর্ষা গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসে বসানো হচ্ছে সোলার প্যানেল। অফিসের সমস্ত বৈদ্যুতিন যন্ত্র এবার থেকে সৌর বিদ্যুতে চলবে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ৭.৫ কেভি বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এই প্রকল্পের জন্য খরচ হবে প্রায় দশ লক্ষ টাকা। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, কেশপুর ব্লকের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হবে। কেশপুর ব্লক সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে নতুন দিশা দেখাবে। 
Advertisement
এদিন কেশপুর ব্লকের জয়েন্ট বিডিও সৌমিক সিংহ বলেন, প্রচুর বিদ্যুতের বিল আসে প্রতিটা গ্রাম পঞ্চায়েতে। সেই কথা মাথায় রেখে গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাদে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। এতে খরচ বাঁচবে। ব্লকের প্রতিটা গ্রাম পঞ্চায়েতে এই প্রকল্পের রূপায়ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। 
প্রসঙ্গত, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকারও। সৌর চালিত পথবাতি বসানো হচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বিপুল হারে বাড়বে। তাই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সৌর বিদ্যুৎ পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুতেরউৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগও নিচ্ছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ অপচয় সবচেয়ে বেশি। হয়ে থাকে। এরফলে বিপুল পরিমাণে বিদ্যুতের বিল আসে। যার খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। প্রশাসনের আধিকারিকদের কথায়, কেশপুর ব্লকের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকার বিল আসে। সেই টাকা কয়েক ধাপে জমা দেয় পঞ্চায়েত অফিসগুলো। একইসঙ্গে অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুতের বিল এলে টাকা বকেয়া রাখতেও বাধ্য হয় পঞ্চায়েত অফিসগুলি। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, কিছু বছর আগেও পঞ্চায়েত অফিসে মাথার উপর শুধু পাখা ঘুরত। বর্তমানে প্রতিটি পঞ্চায়েত অফিসে চারটে-পাঁচটা করে এসি মেশিন বসানো থাকে। এছাড়া পঞ্চায়েত অফিসের অনেক ঘরে গেলেই দেখা যায় পাখা, লাইট,এসি চলছে। কিন্তু ঘর ফাঁকা। পঞ্চায়েত অফিসগুলো বিদ্যুৎ বিলের জন্য এত টাকা খরচ করলে মানুষকে পরিষেবা কী দেবে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই পদ্ধতি অবলম্বন না করলে সমস্যা আরও বাড়বে। কেশপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রদ্যৎ পাঁজা বলেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। কেশপুরের এই উদ্যোগ আগামী দিনে জেলার নানা প্রান্তে দেখা যাবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ