সংবাদদাতা, ঘাটাল: বইমেলা নিয়ে বির্তক পিছু ছাড়ছে না। জেলা বই মেলা ঘাটালে ফিরে এলেও ঘাটালে সেই বইমেলা করা নিয়ে আবার বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘাটাল বিদ্যাসাগর স্কুল মাঠে ১৬ ডিসেম্বর থেকে জেলা বইমেলা হওয়ার কথা ঘোষণা করা রয়েছে। ঘাটাল শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজন চাইছেন না, বিদ্যাসাগর স্কুলের খেলার মাঠে জেলা বইমেলা অনুষ্ঠিত হোক। কারণ, শীতের সময় ওই মাঠে নিয়মিত বিভিন্ন টুর্নামেন্ট এবং স্থানীয় ক্রীড়া প্রশিক্ষণের জন্য মাঠটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বইমেলা হলে প্রায় এক মাস ধরে মাঠটি খেলার উপযোগী থাকবে না বলে দাবি উঠেছে মাঠ রক্ষণাবেক্ষণকারীদের থেকে। এনিয়ে তাঁরা বইমেলা কমিটির কাছে দাবিও রেখেছেন বলে জানা গিয়েছে। বইমেলা পরিচালনা করে জেলা গ্রন্থাগার প্রশাসন। গ্রন্থাগার প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা বইমেলা নিয়ে ২৬ নভেম্বর ঘাটাল মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে একটি মিটিং রয়েছে। সেখানেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
Advertisement
ঘাটাল শহরের শিলাবতী নদীর পূর্ব তীরের তিনটি মাঠে খেলাধুলো হয়। একটি অরবিন্দ স্টেডিয়াম, বিদ্যাসাগর স্কুলের খেলার মাঠ এবং কুশপাতার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠ। তিনটি মাঠের মধ্যে স্টেডিয়াম এবং বিদ্যাসাগর স্কুল মাঠটি ঘাটাল-মেচোগ্রাম রাস্তার পাশেই। অন্যদিকে কুশপাতার মাঠটি তুলনামূলক ভাবে অনেকটা ভেতরে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই স্টেডিয়াম এবং বিদ্যাসাগর স্কুলের খেলার মাঠটিকে ক্রীড়াপ্রেমীরা খেলাধুলোর কাজে ব্যবহার করতে চান। শহরবাসীরা জানালেন, বেশ কয়েক বছর ধরে ঘাটাল অরবিন্দ স্টেডিয়ামে শিশুমেলা হয়ে আসছে। তাছাড়াও স্টেডিয়ামে হেলিপ্যাড, নির্বাচনের কাজ সহ নানা কারণে যখন-তখন ব্যবহার করা হয়। তাই ঘাটাল বিদ্যাসাগর স্কুলের মাঠটিকে পড়ুয়া থেকে শুরু করে যুবকেরা খেলাধুলোর জন্য ব্যবহার করেন। বিদ্যাসাগর স্কুলমাঠে শীতের সময় অনেক টুর্নামেন্টও হয়। সেজন্য ঘাটাল বিদ্যাসাগর স্কুলের মাঠটিকে অনেক মেহনত করে রক্ষণাবেক্ষণও করতে হয়।
কোন্নগরের বাসিন্দা বুল্টি হড়, রাজকুমার সাউ প্রমুখ বলেন, শীতের শুরুতেই বিদ্যাসাগর স্কুল মাঠে বইমেলা হলে মাঠটি নষ্ট হয়ে যাবে। ভালো পিচ এবং মাঠের গুণমান বজায় রাখার জন্য যে পরিমাণ পরিশ্রম করা হয়, তা মেলার জন্য এক মাসের অনুপযুক্ত ব্যবহারে নষ্ট হতে পারে। এছাড়া, বইমেলার সময় প্র্যাকটিস এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনও ব্যাহত হবে।
শহরবাসীর প্রস্তাব, যেহেতু শিশুমেলার মতোই বইমেলাও পরোক্ষে শাসক দলের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। দুই মেলা কমিটি নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে স্টেডিয়ামেই বইমেলা স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা করুক। কারণ শিশুমেলা শুরু হবে ১৬ জানুয়ারি এবং বই মেলা শেষ হবে তার এক মাস আগেই, ১৬ ডিসেম্বর। এই দুই মেলার মধ্যে এক মাস ব্যবধান থাকায় স্টেডিয়ামে পর্যায়ক্রমে দু’টি মেলা করার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বইমেলা স্টেডিয়ামে স্থানান্তরিত হলে ক্রীড়াচর্চা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, দু’টি মেলাই সমান গুরুত্ব দিয়ে আয়োজন করা যাবে। এখন কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকে তাকিয়ে শহরের ক্রীড়াপ্রেমী এবং সাংস্কৃতিক মহল।
প্রসঙ্গত, পর্যায়ক্রমে জেলা বইমেলা এবার ঘাটাল মহকুমায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসন ‘বন্যাপ্রবণ এলাকা’ ইস্যু তুলে জেলা বইমেলা জেলা শহরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এতে মহকুমাবাসী আন্দোলন শুরু করেন। শুক্রবার জেলা গ্রন্থাগার প্রশাসন ফের ঘাটালে বইমেলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু বিদ্যাসাগর স্কুল মাঠে ওই মেলার সিদ্ধান্ত ক্রীড়ামোদি মানুষদের ভালো লাগেনি।
কোন্নগরের বাসিন্দা বুল্টি হড়, রাজকুমার সাউ প্রমুখ বলেন, শীতের শুরুতেই বিদ্যাসাগর স্কুল মাঠে বইমেলা হলে মাঠটি নষ্ট হয়ে যাবে। ভালো পিচ এবং মাঠের গুণমান বজায় রাখার জন্য যে পরিমাণ পরিশ্রম করা হয়, তা মেলার জন্য এক মাসের অনুপযুক্ত ব্যবহারে নষ্ট হতে পারে। এছাড়া, বইমেলার সময় প্র্যাকটিস এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনও ব্যাহত হবে।
শহরবাসীর প্রস্তাব, যেহেতু শিশুমেলার মতোই বইমেলাও পরোক্ষে শাসক দলের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। দুই মেলা কমিটি নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে স্টেডিয়ামেই বইমেলা স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা করুক। কারণ শিশুমেলা শুরু হবে ১৬ জানুয়ারি এবং বই মেলা শেষ হবে তার এক মাস আগেই, ১৬ ডিসেম্বর। এই দুই মেলার মধ্যে এক মাস ব্যবধান থাকায় স্টেডিয়ামে পর্যায়ক্রমে দু’টি মেলা করার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বইমেলা স্টেডিয়ামে স্থানান্তরিত হলে ক্রীড়াচর্চা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, দু’টি মেলাই সমান গুরুত্ব দিয়ে আয়োজন করা যাবে। এখন কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকে তাকিয়ে শহরের ক্রীড়াপ্রেমী এবং সাংস্কৃতিক মহল।
প্রসঙ্গত, পর্যায়ক্রমে জেলা বইমেলা এবার ঘাটাল মহকুমায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসন ‘বন্যাপ্রবণ এলাকা’ ইস্যু তুলে জেলা বইমেলা জেলা শহরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এতে মহকুমাবাসী আন্দোলন শুরু করেন। শুক্রবার জেলা গ্রন্থাগার প্রশাসন ফের ঘাটালে বইমেলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু বিদ্যাসাগর স্কুল মাঠে ওই মেলার সিদ্ধান্ত ক্রীড়ামোদি মানুষদের ভালো লাগেনি।



