সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ভাঙন কবলিত সামশেরগঞ্জের বেশ কয়েকটি পরিবার স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। ফলে স্কুলে পঠনপাঠন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্কুলে পড়ুয়ারা না আসায় বন্ধ রয়েছে মিড ডে মিলও। প্রায় দিন কুড়ি ধরে স্কুলে পঠনপাঠন ও রান্না বন্ধ। যদিও স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়মিত হাজির থাকতে হচ্ছে। স্কুলে কোনও পড়ুয়া না আসায় শিক্ষকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষাদপ্তর। স্কুলে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় স্কুলে আশ্রয় নেওয়া সর্বস্ব হারানো ভুক্তভোগী মানুষরা কোথায় যাবেন ভেবে পাচ্ছেন না। এ প্রসঙ্গে সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান চক্রের স্কুল পরিদর্শক হুসনেয়ারা খাতুন বলেন, পুজো অবকাশে অন্তত ছয়টি পরিবার স্কুলে আশ্রয় নেয়। স্কুল খোলার আগেই তারা স্কুল ছেড়ে দেবে বলেছিল। কিন্তু তারা এখনও স্কুল না ছাড়ায় পঠনপাঠন ও মিড ডে মিল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, ইকবাল শেখ, ইদ্রিস আলি ও নাফিসা খাতুনরা সামশেরগঞ্জের ৭৯ নম্বর শিকদারপুর প্রাথমিক স্কুলের ছাত্র। দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইকবাল শেখ পড়ালেখায় অত্যন্ত মনোযোগী। ইদ্রিস ও নাসিফা পড়ে চতুর্থ শ্রেণিতে। প্রায় মাস খানেক আগে ভয়াবহ ভাঙনে বহু বাড়ির ঘরের সঙ্গে তাদেরও বাড়ি গঙ্গাভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে তাঁদের আশ্রয় হয়েছে স্কুলে ঘরে। ছ’টি পরিবার স্কুলে আশ্রয় নেওয়ায় কার্যত পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্কুলের পাঁচটি শ্রেণি কক্ষেই সংসার পেতেছেন এলাকাবাসীরা। ইকবাল, ইদ্রিসরা স্কুলেই থাকলেও তাদেরও পঠনপাঠন কার্যত শিকেয় উঠেছে। স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩২৭ জন। একজন প্যারা টিচার সহ মোট ছ’জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। শিক্ষকরা প্রতিদিনই স্কুলে আসছেন। স্কুলে ছেলেমেয়েরা না আসায় শিক্ষকদের গল্পগুজব করে সময় কাটছে। তারপর সময় হলে ফিরে যাচ্ছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রতনকুমার দাস বলেন, আমরা তো প্রতিদিনই স্কুলে আসছি। ছাত্রছাত্রীরা জেনে গিয়েছে স্কুলে লোকজন আছে তাই ক্লাস হবে না। ফলে তারাও আসে না। আমরাও বসে বিরক্ত বোধ করছি। আমরা তো আর আশ্রয় নেওয়া মানুষজনকে বের করে দিতে পারি না। তবে এলাকার ছেলেমেয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটাও ভাবা দরকার। বিষয়টি প্রশাসনের সর্বস্তরে জানানো হয়েছে।
Advertisement
প্রতাপগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আয়েশা বিবি বলেন, পরিবারগুলোকে স্কুলের উপরে রুমে থাকতে বলা হয়েছে। আপাতত নীচের তলায় ক্লাস চলবে। সামনের মাস থেকে আশ্রয়গ্রহণকারীরা চলে যাবেন।



