চামোলি: সাতসকালে ভয়াবহ তুষারধস। আবারও বড় বিপর্যয় উত্তরাখণ্ডের দেবস্থানে। এবার বদ্রীনাথে। বদ্রীনাথ মন্দির থেকে মাত্র ছ’কিমি দূরে, চামোলি জেলার মানা গ্রামের কাছে সেই তুষারধসে চাপা পড়ে যান বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন (বিআরও)-এর ৫৭ জন শ্রমিক। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজে নামে ভারতীয় সেনার আইবিইএক্স ব্রিগেড। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও কাজে নামানো হয়। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এখনও পর্যন্ত ৩২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পুরু বরফের তলায় এখনও চাপা পড়ে রয়েছেন ২৫ জন। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে কমপক্ষে ১০ জন গুরুতর আহত। তাঁদের আইটিবিপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দেরাদুন অফিস জানিয়েছে, ২২ জন শ্রমিক তুষারধসের কবল থেকে বেরতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁরা এখন বদ্রীনাথে। বাকিদের খোঁজে অভিযান জারি রয়েছে। মানা থেকে যোশিমঠের রাস্তা খোলার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সেনার আইবিইএক্স ব্রিগেডের কমান্ডার, ব্রিগেডিয়ার এম এস ধিলোঁ।
Advertisement
উত্তরাখণ্ড পুলিসের ডিজি দীপম শেঠ জানিয়েছেন, সকাল সওয়া সাতটা নাগাদ বিআরও ক্যাম্পে ছিলেন ৫৭ জন নির্মাণ শ্রমিক। আচমকাই বিপর্যয় ঘটে যাওয়ায় কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। সকলেই বরফের নীচে চাপা পড়ে যান। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সেনা, আইটিবিপি ও এনডিআরএফের চারটি দল। যোশিমঠ থেকে রওনা দেয় এসডিআরএফের একটি টিমও। ভারী তুষারপাতের মধ্যেই ৬০-৬৫ জন উদ্ধারকারী সমানে কাজ করছেন। বরফ সরাতে স্নো-কাটার ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিআরও’র এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সি আর মিনা জানিয়েছেন, ৩-৪টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হলেও বরফ ঠেলে এগতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে। তুষারপাতের সঙ্গে সমান তালে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া চলতে থাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
দুর্ঘটনার খবরে অত্যন্ত শোকাহত উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। উদ্ধারকাজ নিয়ে রাজ্যের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও করেন তিনি। পরে টুইটারে লেখেন, ‘শ্রমিক ভাইদের সুস্থতার জন্য বাবা বদ্রীর কাছে প্রার্থনা করছি।’ ঘটনার পরই তাঁকে ফোন করে খোঁজখবর নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যোগাযোগ করা হয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও। ধামি জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আটকে পড়া শ্রমিকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করাকেই প্রাধান্য দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজেও গোটা বিষয়টিতে প্রতিনিয়ত নজর রাখছেন।
উত্তরাখণ্ড, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ সহ দেশের বিভিন্ন পার্বত্য এলাকায় ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছে দিল্লির মৌসম ভবন। শুক্রবার রাত পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের পূর্বাভাসও রয়েছে। বরফের কারণে ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক। ফলে উধমপুরের জাখানিতে আটকে পড়েছে ট্রাক, বাস সহ বিপুল সংখ্যক যানবাহন। দুর্ঘটনার খবরে অত্যন্ত শোকাহত উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। উদ্ধারকাজ নিয়ে রাজ্যের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও করেন তিনি। পরে টুইটারে লেখেন, ‘শ্রমিক ভাইদের সুস্থতার জন্য বাবা বদ্রীর কাছে প্রার্থনা করছি।’ ঘটনার পরই তাঁকে ফোন করে খোঁজখবর নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যোগাযোগ করা হয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও। ধামি জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আটকে পড়া শ্রমিকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করাকেই প্রাধান্য দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজেও গোটা বিষয়টিতে প্রতিনিয়ত নজর রাখছেন।



