Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিডিও’র নাম করে আবাসের কাটমানি প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

বিডিও’র নাম করে আবাসের কাটমানি প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বিডিওর নাম করে প্রধানের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বুধবার মহকুমা শাসক পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিলেন জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন তিনি। এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযোগ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। কমিটির মাথায় মালদহ সদর মহকুমা শাসক পঙ্কজ তামাং। এছাড়াও কমিটিতে আছেন পঞ্চায়েত দপ্তর এবং আবাস যোজনা প্রকল্পের আরও দুই আধিকারিক। জেলাশাসক বলেন, মহকুমা শাসক পর্যায়ের তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবাসে অনিয়ম আটকাতে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
Advertisement
বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বিডিওর নাম করে প্রধানের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ইতিমধ্যে এবিষয়ে কালিয়াচক-৩ গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।  
বাংলার বাড়ি প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে এবার প্রথম থেকেই সার্ভে করা হয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে। শাসক ও বিরোধী কোনও জনপ্রতিনিধিকেই সার্ভে সহ অন্য কাজে যুক্ত করা হয়নি। তা সত্ত্বেও মালদহের কালিয়াচক ও  হরিশ্চন্দ্রপুরে আবাস পাইয়ে দেওয়ার নাম করে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। শুধু কাটামানি চাওয়ার অভিযোগই নয়। টাকা দিয়েও খসড়া তালিকায় নাম না ওঠায় ফেরত চেয়েছিলেন একাংশ বাসিন্দা। তখন তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ সামনে আসে। 
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও (সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’) ভাইরাল হয়। দেখা যায় কালিয়াচক-৩ এর বিডিওর নাম করে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তাদের কাছ থেকে সাত হাজার টাকা করে তোলার নির্দেশ দিচ্ছেন স্বয়ং বৈষ্ণবনগর এলাকার কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। এনিয়ে প্রধানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোনটি সুইচড অফ ছিল।
মঙ্গলবার চকবাহাদুরপুর গ্রামের তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য স্বাধীন মণ্ডল অভিযোগ করেছিলেন, প্রধান আমাদেরকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি প্রত্যেক উপভোক্তার কাছ থেকে আমাদের টাকা তুলতে বলেন। এর প্রতিবাদ করলে তিনি জানান, যদি কোন‌ও উপভোক্তা না টাকা দেন সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে। আমরা এর প্রতিবাদ করি এবং বিষয়টি দলের উপরমহলে জানিয়েছি।
অন্য এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তথা কংগ্রেস নেতা রফিকুল ইসলামও প্রধানের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। তাঁর মন্তব্য, প্রধান সব দলের সদস্যদের রেস্তরাঁয় ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তখনই তিনি উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা তোলার জন্য চাপ দেন। আমরা তাঁর কথায় সায় না দিয়ে বেরিয়ে আসি।
সম্পর্কিত সংবাদ