Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিডিও’র নাম করে আবাসের কাটমানি নিতে নির্দেশ সদস্যদের! অভিযুক্ত প্রধান

বিডিও’র নাম করে আবাসের কাটমানি নিতে নির্দেশ সদস্যদের! অভিযুক্ত প্রধান
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কালিয়াচক: বিডিওর নাম করে আবাসের উপভোক্তাদের কাছ থেকে সাত হাজার টাকা করে তোলার নির্দেশ দিচ্ছেন পঞ্চায়েত প্রধান। এমনই এক ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল (সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’) হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,সম্প্রতি বৈষ্ণবনগরের একটি রেস্তরাঁয় কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সব সদস্যকে ডেকে পাঠান প্রধান আবদুল আহাদ। ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখা যাচ্ছে, তিনি প্রতিটি পঞ্চায়েত সদস্যকে উদ্দেশ্য করে প্রত্যেক আবাস উপভোক্তার কাছ থেকে সাত হাজার টাকা করে তোলার নির্দেশ দেন। সেখানে প্রধানকে বলতে শোনা যাচ্ছে, কালিয়াচক-৩ এর বিডিও তাঁকে এবং অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েতের সাত,আটজন প্রধানকে নিজের চেম্বারে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তখনই তিনি প্রধানদের বলেন প্রত্যেক উপভোক্তার কাছ থেকে সাত হাজার টাকা করে তুলে তাঁকে দিতে হবে। 
এই ঘটনার পর জেলাশাসকের দপ্তরে ইমেল মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকজন সদস্য।  চকবাহাদুরপুর গ্রামের তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য স্বাধীন মণ্ডলের কথায়, আমাদের প্রধান ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর কথামতো সেখানে গেলে প্রত্যেক উপভোক্তার কাছ থেকে বিডিওর নাম করে আমাদের টাকা তুলতে বলেন। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তিনি জানান, যদি কোন‌ও উপভোক্তা টাকা না দেন সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে। আমরা এর প্রতিবাদ করি এবং বিষয়টি দলের উপরমহলে জানিয়েছি। দলের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কাউকে ঘরের জন্য কোন‌ও টাকা দিতে হবে না। যাঁরা যোগ্য, অবশ্যই ঘর পাবেন। 
অন্য এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তথা কংগ্রেস নেতা রফিকুল ইসলামও এক সুরে বলেছেন,প্রধান সব দলের সদস্যদের ওই রেস্তরাঁয় ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তখনই তিনি উপভোক্তাদের কাছে টাকা তোলার জন্য চাপ দেন। আমরা তাঁর কথায় সায় না দিয়ে বেরিয়ে আসি। বিষয়টি মৌখিকভাবে বিডিওকে জানিয়েছিলাম। লিখিতভাবে বিষয়টি জেলাশাসককে জানিয়েছি।
এই অভিযোগের ব্যাপারে প্রধানকে বারবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও তিনি উত্তর দেননি। বিডিও সুকান্ত শিকদার বলেছেন, আমার নাম করে টাকা তোলার বিষয়টি শুনেছি। আমি কাউকে টাকা দেওয়ার কথা বলিনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। এই পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আনন্দ মণ্ডল বলেন, প্রধানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আমার কানেও এসেছে। এরকমভাবে টাকা চাওয়া সম্পূর্ণ অনুচিত। গত পঞ্চায়েত ভোটে নির্দল হিসেবে জিতেছিলেন আব্দুল। কংগ্রেস ও বিজেপির সমর্থনে বোর্ড গঠন করা হলে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে প্রধান নির্বাচিত করা হয়। বিরোধী আসনে থাকে তৃণমূল। কিন্তু চলতি বছরের আগস্ট মাসে আব্দুল তৃণমূলে যোগ দেন। শাসক দলের অঞ্চল সভাপতি মাসিদুর রহমান বলেন,এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রধানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সম্পর্কিত সংবাদ